• ঐতিহাসিক জয়ের মাঝেই গ্যালারিতে ‘পুতো’ স্লোগান বিতর্ক, শাস্তির খাঁড়ার মুখে মেক্সিকো
    এই সময় | ০২ জুলাই ২০২৬
  • মেক্সিকো (Mexico) বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এ জায়গা নিশ্চিত করেছে এক ঐতিহাসিক জয়ে। ইকুয়েডরকে (Ecuador) ২-০ গোলে হারিয়ে উচ্ছ্বাসে ভেসেছে অ্যাজ়টেকা স্টেডিয়াম (Estadio Azteca)। কিন্তু মাঠের সেই উৎসবের মাঝেই ফিরে এসেছে পুরনো এক বিতর্ক, যা আবারও বিপাকে ফেলতে পারে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনকে। ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারির একাংশ থেকে বিতর্কিত ‘পুতো’ স্লোগান শোনা যাওয়ায় নতুন করে ফিফার (FIFA) নজরে এসেছে মেক্সিকো। ফলে ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দের পাশাপাশি শাস্তির আশঙ্কাও ঘনিয়ে এসেছে আয়োজকদের সামনে।

    ঐতিহাসিক জয়, সামনে ইংল্যান্ড

    ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে ইতিহাস লিখেছে মেক্সিকো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কোনও ম্যাচে জয় পেয়েছে তারা। হুলিয়ান কিনিওনেস (Julian Quinones) ও রাউল জিমেনেজ়ের (Raul Jimenez) গোলে জয় নিশ্চিত হয়। কোচ হাভিয়ের আগুইরের (Javier Aguirre) দল টানা চার ম্যাচ জিতেছে, আর এখনও পর্যন্ত একটি গোলও হজম করেনি। এই কীর্তিতে মেক্সিকো ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে ইতালির (Italy) পর প্রথম দল হিসেবে টুর্নামেন্টের প্রথম চার ম্যাচ জিতল কোনও গোল না খেয়ে।

    পুরনো বিতর্ক আবারও ফিরে এল
    ম্যাচের সময় ইকুয়েডরের গোলরক্ষক গোল কিক নেওয়ার মুহূর্তে গ্যালারির কিছু অংশ থেকে ‘পুতো’ স্লোগান শোনা যায়। স্প্যানিশ ভাষার এই শব্দটিকে দীর্ঘদিন ধরেই বৈষম্যমূলক ও সমকামীবিদ্বেষী বলে মনে করে FIFA। ২০১৪ সালের ব্রাজ়িল বিশ্বকাপ (Brazil FIFA World Cup) থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ (Russia FIFA World Cup) এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও (Qatar FIFA World Cup) একই বিতর্ক দেখা গিয়েছিল। এ বারও সেই স্লোগান শোনা যাওয়ায় টানা চতুর্থ পুরুষদের FIFA বিশ্বকাপে এই ঘটনা ঘটল।

    গত কয়েক বছর ধরে সমর্থকদের সচেতন করতে নানা প্রচার চালিয়েছে মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ‘লা ওলা সি, এল গ্রিতো নো’ (La Ola Si, El Grito No) নামে বিশেষ প্রচারাভিযানও শুরু করা হয়। যার মূল বার্তা ছিল— মেক্সিকান ওয়েভ করুন, অপমানজনক স্লোগান নয়। কিন্তু এত উদ্যোগের পরও সমস্যার সমাধান হয়নি।

    আবারও শাস্তির ঝুঁকিতে মেক্সিকো

    একই ধরনের ঘটনার জন্য অতীতে একাধিক বার শাস্তি পেয়েছে মেক্সিকোর ফুটবল কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালে বলিভিয়া (Bolivia), উরুগুয়ে (Uruguay), ব্রাজ়িল (Brazil) ও আমেরিকার (United States) বিরুদ্ধে ম্যাচে এমন স্লোগানের ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে ফিফা বড় অঙ্কের জরিমানা করেছিল। পরে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (Court of Arbitration for Sport- CAS) সেই জরিমানা বহাল রাখলেও স্টেডিয়ামের একটি অংশ বন্ধ রাখার শাস্তি বাতিল করে।

    CAS তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ দিন ধরে চলা একটি বড় সমস্যা। বিশ্বকাপ জুড়ে বর্তমানে যে বৈষম্যবিরোধী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তার আওতায় অ্যাজ়টেকা স্টেডিয়ামের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে নতুন করে তদন্ত শুরু করবে কি না, তা এখন FIFA-র সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। এ দিকে অনেকেই মনে করেন, শুধু জরিমানা করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তাঁর মতে, সমর্থকদের নিজেদের উদ্যোগেই এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।

    তবে বিতর্কের মাঝেও এখন মেক্সিকোর প্রধান লক্ষ্য ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ ১৬-র লড়াই। কিন্তু FIFA যদি নতুন করে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করে, তা হলে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেটি আয়োজক দেশটির জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
  • Link to this news (এই সময়)