স্কুল ভবনে বজ্রপাত, কপালজোরে রক্ষা কয়েকশো পড়ুয়ার! দুর্যোগে বন্ধ পঠন-পাঠন
News18 বাংলা | ০২ জুলাই ২০২৬
কয়েক ঘন্টার দুর্যোগে, জঙ্গলমহলে বন্ধ হয়ে গেল পঠন পাঠন। পুড়ে গেল গোটা স্কুলের ওয়ারিং। অল্পের জন্য রক্ষা পেল পাশের হোস্টেল। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিরাট, ভয়ংকর বজ্রপাতে তছনছ হয়ে গেল গোটা স্কুল। অতন্দ্র প্রহরীর মত দাঁড়িয়ে থাকলেন প্রধান শিক্ষক। বজ্রপাতে পুড়ে গেল পাম্প, ফ্যান। ফাটল দেখা দিল স্কুল ভবনে। সন্ধ্যায় রাইপুরের চাতরি নিম্ন বুনিয়াদি আবাসিক বিদ্যালয়ের ঘটনা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক উত্তমকুমার মণ্ডল জানান, বজ্রপাতে সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে বিদ্যালয়ের পানীয় জলের পাম্প।
প্রায় আড়াইশো ছাত্র-ছাত্রীর পানীয় জল এবং মিড-ডে মিল তৈরি নিয়ে সমস্যা দেখা দেবে। এ ছাড়া, দোতলা বিদ্যালয় ভবনের প্রায় সব বৈদ্যুতিক তার পুড়ে গিয়েছে। নষ্ট হয়েছে ১২টি সিলিং ফ্যান। ভবনের একাধিক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। ভেঙে গিয়েছে কয়েকটি কক্ষের দরজা। অফিসকক্ষে থাকা মনীষীদের ছবিও নষ্ট হয়েছে। যদিও বিদ্যালয় লাগোয়া আবাসিক হস্টেলের কোনও ক্ষতি হয়নি। তাঁর আশঙ্কা, দ্রুত সরকারি সাহায্য না পেলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠন-পাঠন চালান কঠিন হয়ে পড়বে।
স্কুলের দ্রুত পুনর্গঠনের আবেদন জানান তিনি। ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ঘটনাটি জানার পরে এক ইঞ্জিনিয়ারকে স্কুলে পাঠান হয়েছে। রিপোর্ট মিললে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে। তীব্র বজ্রপাতের এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর এত বড় ক্ষতির ফলে আপাতত দৈনন্দিন পঠন-পাঠন, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং মিড-ডে মিল পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চালানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ইঞ্জিনিয়ারের রিপোর্ট হাতে এলেই মেরামত ও পুনর্গঠনের বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশা, দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ মিললে পড়ুয়াদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফের আগের ছন্দে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।