স্যর আইজ়্যাক নিউটন বিজ্ঞানী নন, হয়ে গিয়েছিলেন পাইলট! কর্নাটকের বিখ্যাত হাম্পি মন্দিরও বদলে গিয়েছিল ওডিশার কোনারকের সূর্য মন্দিরে। প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য এমনই সব ভুলে ভরা পাঠ্যবই ছাপানো নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছিল ওডিশায়। চাপের মুখে এ বার সেখানকার বিজেপি সরকার জানাল, শীঘ্রই বাচ্চাদের সংশোধিত বই দেবে তারা। তবে পাঠ্যবইয়ে অন্তত ১৬৭৮টি ভুল রয়েছে বলে যে অভিযোগ করছিলেন বিরোধীরা, তা মানতে নয় সরকার। তাদের দাবি, ভুলের সংখ্যা অতও নয়। সংখ্যা অনেক কম।
ওডিশার স্কুল এবং গণশিক্ষা দপ্তরের সচিব এন তিরুমালা নায়েক জানান, সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েই দেখছে। যে সব ভুল ধরা পড়েছে, তা শুধরে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেই নতুন বই ছাপানো হচ্ছে। যেখানে যা ভুল রয়েছে, তা ইতিমধ্যে স্কুলের শিক্ষকদের জানানো হয়েছে। যত দিন না নতুন বই ছাপানো হচ্ছে, তত দিনে ক্লাসে পড়ানোর সময়ে সেই ভুলগুলি শিক্ষকরাই শুধরে দেবেন। তবে তিরুমালা বলেন, ‘অনেক জায়গায় শুনছি, সব মিলিয়ে নাকি ১৬৭৮টি ভুল রয়েছে। সংখ্যাটা এত নয়। হাজারেরও কম। সব কিছু অতিরঞ্জিত করে দেখানো হচ্ছে।’ কিন্তু ভুলের সংখ্যা আসলে কত, তা নিয়ে অবশ্য কিছু বলেননি তিরুমালা।
২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি অনুসরণ করে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন বই ছাপানো হয়েছে ওডিশায়। তা স্কুলে স্কুলে পৌঁছনোর পরেই ইতিহাস, বিজ্ঞান, ভূগোল-সহ বিভিন্ন বিষয়ের পাঠ্যবইয়ে প্রচুর ভুল ধরা পড়ে। ব্যাকরণগত ভুল যেমন ছিল, তেমনই ছিল প্রচুর তথ্যগত ভুল। দেখা যায়, একটি পাঠ্যবইয়ে স্যর আইজ়্যাক নিউটনকে বর্ণনা করা হয়েছে পাইলট হিসেবে। পাঠ্যবইয়ে ওডিশার বিধানসভা ভবনও বদলে গিয়েছিল। কর্নাটকের বিধানসভা ভবনের একটি ছবিকে ওডিশার বিধানসভা ভবন হিসেবে দেখানো হয়। আবার হাম্পি মন্দির চত্বরের ছবি চালিয়ে দেওয়া হয় কোনারকের সূর্য মন্দির হিসেবে।
বিষয়টি ঘিরে বিতর্ক শুরু হতেই ওডিশার স্কুল ও গণশিক্ষা মন্ত্রী নিত্যানন্দ গোন্ড জানিয়েছিলেন, সম্পাদনা আর ছাপার ভুলেই এই ঘটনা ঘটেছে। মন্ত্রীর কথায়, ‘এনসিইআরটি বইয়ের উপর ভিত্তি করে শিক্ষা বিভাগ ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির ২৫৫টি পাঠ্যবই তৈরি করেছে। নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের বিষয়টি তদারকি করার জন্য আমরা একটি পরিচালন কমিটি গঠন করেছিলাম। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এসসিইআরটি পাঠ্যবইগুলো তৈরি করে। বইগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি করা হয়, যে কারণে হয়তো কিছু মুদ্রণ ও সম্পাদনাগত ত্রুটি থেকে গিয়েছে। আমরা ভুলগুলো চিহ্নিত করেছি এবং সেগুলো সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’