কোন ঘনিষ্ঠকে ট্র্যাক করে দেবরাজের খোঁজ মিলল জানেন?
আজকাল | ০২ জুলাই ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই তিনি বেপাত্তা ছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে বুধবার পুরুলিয়া থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর তথা অভিষেক ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।
একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ইডি-ও দিল্লির সবুজ সংকেত মেলায় ইসিআইআর দায়ের করে তদন্তে নেমেছে।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, গত ১৬ জুন থেকে ক্রমাগত নিজের আস্তানা বদল করছিলেন দেবরাজ। উত্তরবঙ্গের কালিম্পং সহ একাধিক জায়গায় গা-ঢাকা দিয়েও শেষ রক্ষা হল না।
পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে দফায় দফায় মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড পাল্টাচ্ছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, প্রায় ১০০টি মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করার পর অবশেষে দেবরাজের হদিস পান গোয়েন্দারা। দেবরাজ তাঁর পরিচিত যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন, তাঁদের প্রত্যেকের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে, রাঁচির এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেবরাজের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। ওই ব্যবসায়ীর রিসর্ট ব্যবসায় দেবরাজ কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন বলেও সূত্রের খবর।
গত ১০ দিন ধরে রাঁচি থেকে কিছুটা দূরে, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড সীমানার কাছে পুরুলিয়ার একটি হোটেলে লুকিয়ে ছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন আরও এক যুবক। ওই যুবকের মোবাইল ট্র্যাক করেই শেষ পর্যন্ত দেবরাজের ডেরায় পৌঁছয় এসটিএফ। গোয়েন্দাদের অনুমান, পুরুলিয়া হয়ে ঝাড়খণ্ডে পালিয়ে যাওয়ার ছক ছিল তাঁর।
দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী ১২৬(২), ১২৭(২), ৩০৮(২), ৩০৮(৪), ৩০৮(৬), ৩০৮(৭), ১১১/৩২৪(৪), ৩২৪(৫), ৬১(২)/৩৫১(২) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
মূল অভিযোগটি তুলেছেন অভিজিৎ সাহা নামে কৃষ্ণপুর এলাকার এক প্রোমোটার। তাঁর দাবি, কৃষ্ণপুরে একটি বহুতল আবাসন নির্মাণের সময় দেবরাজ ও তাঁর দলবল জোর করে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
প্রাণভয়ে ওই প্রোমোটার দেবরাজ চক্রবর্তীকে ৩০ লক্ষ টাকা এবং মনীষ মুখার্জি নামে তাঁর এক সহযোগীকে ৫ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে মনীষ মুখার্জিও তাঁকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ।
এখানেই শেষ নয়, কিশোর নামে আরও এক প্রোমোটার দেবরাজের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, দেবরাজ তাঁর কাছে ১ কোটি টাকা চান, যার মধ্যে ২৭ লক্ষ টাকা তিনি ইতিমধ্যেই দিয়েছিলেন। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মারধর, হুমকি এবং মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও দায়ের হয়েছে।
আপাতত পুলিশের জালে এই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। এবার একদিকে পুলিশের মামলা এবং অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি-র জোড়া সাঁড়াশি চাপের মুখে দেবরাজ চক্রবর্তী।