• অসম লড়াই! চিতাবাঘের মুখ থেকে নাতি-পোষ্যের প্রাণ বাঁচিয়ে সাহসের নজির বৃদ্ধার
    প্রতিদিন | ০২ জুলাই ২০২৬
  • এ এক অসম লড়াই। ক্ষিপ্ত চিতাবাঘের সঙ্গে একঘণ্টা ধরে লড়াই করে নিজের নাতি ও প্রিয় পোষ্যের প্রাণ বাঁচালেন দার্জিলিংয়ের (Darjeeling) বৃদ্ধা! শুধু তাই নয়, তাঁর এই লড়াই সাহসিকতার অনন্য নজির গড়ল। এলাকাবাসী তো বটেই, দার্জিলিংয়ের দেবিকা শেরপার কথা যিনিই শুনছেন, কুর্নিশ না করে যাচ্ছেন না। যদিও ক্ষিপ্ত চিতাবাঘের সঙ্গে ঘণ্টাখানেকের এই লড়াইয়ে নিজে ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন দেবিকা। দার্জিলিং জেলা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কোনওক্রমে বলছেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। বনদপ্তরের কাছে দাবি, হামলাকারী চিতাবাঘটিকে ধরতে হবে।

    ঘটনা বুধবারের। সন্ধ্যা নাগাদ খাওয়াদাওয়া শেষ করে দরজা বন্ধ করে ঘুমোনোর তোড়জোড় করছিলেন লোয়ার ভুটিয়া বস্‌তির দেবকোটা গ্রামের বাসিন্দা দেবিকা শেরপা। আচমকা বাড়ির বাইরে চলে আসে ক্ষিপ্ত একটি চিতাবাঘ। দেবিকার আট বছরের নাতি ও পোষ্য কুকুরটি তার সামনে পড়ে যায়। তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হিংস্র চারপেয়েটি। সঙ্গে সঙ্গে তাদের বাঁচাতে রুখে দাঁড়ান দেবিকা। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলে অসম লড়াই। মুখে-হাতে চিতাবাঘের আঘাত সামলেও নিজের নাতি আর পোষ্যের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হন তিনি। দেবিকার রণমূর্তিতে শেষমেষ রণে ভঙ্গ দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় চিতাবাঘটি।

    এদিকে, চিতাবাঘের আক্রমণে মারাত্মক আহত হয়ে দেবিকা শেরপা বর্তমানে দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর ডানহাত ভেঙেছে, বাঁ হাত রক্তাক্ত, মাথায়ও আঘাত লেগেছে। চিকিৎসার পর আপাতত স্থিতিশীল দেবিকা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন। তাঁর প্রশ্ন, কোনও বন্যপ্রাণীকে আক্রমণ বা হত্যা করা হলে বন বিভাগ কঠোর আইনি ব্যবস্থা যদি নেওয়া হয়, তাহলে এভাবে মানুষ আক্রান্ত হলে কেন পদক্ষেপ করা হবে না? চিতাবাঘটিকে ধরার জন্য বন বিভাগের কাছে তিনি আবেদনও করেছেন। অন্যদিকে বন বিভাগ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গিয়েছে, চিতাবাঘটি এখন অত্যন্ত ক্ষিপ্ত। এই মুহূর্তে তাকে ধরা কঠিন হবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)