• অস্বস্তিতে কালীঘাট তৃণমূল! ফ্রিজই থাকছে অ্যাকাউন্ট, ব্যাঙ্ক-পুলিশের কাছে রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের
    প্রতিদিন | ০২ জুলাই ২০২৬
  • তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে কত টাকা? আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে জানাতে নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের। শুধু তাই নয়, তদন্তের অগ্রগতি অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত কী কী পাওয়া গিয়েছে, কী তথ্য প্রমাণ উঠে এসেছে, তাও পুলিশকে জানাতে নির্দেশ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের। আগামী বুধবার ফের এই মামলার শুনানি হবে। তার আগেই এই সংক্রান্ত তথ্য রিপোর্ট আকারে জমা দিতে হবে। আপাতত ফ্রিজই থাকছে অ্যাকাউন্টগুলি। ফলে হাই কোর্টে গিয়েও স্বস্তি মিলল না কালীঘাট তৃণমূলের।

    প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার বিপুল তহবিল নিয়ে শুরু হয়েছে আইনি লড়াই। একদিকে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং অন্যদিকে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’। এরমধ্যেই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের দাবি জানিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন অরূপ বিশ্বাস। তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ হিসাবে ওই চিঠি দেন। এরমধ্যেই তহবিল নিয়ে তদন্ত চেয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান ঋতব্রত শিবিরের ১০ জন বিধায়ক। তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় সেখানে। এমনকী অ্যাকাউন্ট ব্লক করে তদন্তের দাবিও জানানো হয়। এ অবস্থায় ‘ফ্রিজড’ অ্যাকাউন্টগুলি খুলতে হাই কোর্টে যায় কালীঘাট তৃণমূল।

    আজ, বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে বিচারপতি একাধিক প্রশ্ন তোলেন। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণে জানান, অভিযোগ যদি শুধুমাত্র এই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে ঘিরেই হয়ে থাকে তাহলে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ না করে কি তদন্ত করা যায়? এমনকী কীভাবে তদন্ত করা সম্ভব তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে হাই কোর্ট। তবে এক্ষেত্রে একজন স্পেশাল অফিসার নিয়োগের কথা জানান বিচারপতি। পর্যবেক্ষণে হাই কোর্ট জানায়, যুগ্ম কিংবা স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করা হতে পারে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনও নির্দেশ দেয়নি।

    অন্যদিকে প্রথমদিকে তৃণমূলের তরফে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এদিন শুনানিতে মোট আটটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে বলে আদালতে জানান তৃণমূলের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তিনি বলেন, শুধু তিনটি অ্যাকাউন্ট নয়, আরও ৫ টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ কীভাবে একটা রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে পারে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী। অন্যদিকে এদিন পুলিশের হয়ে হাই কোর্টে সওয়াল করেন তুষার মেহতা। এক্ষেত্রে তাঁর যুক্তি, যদি তৃণমূলের দু’টি অংশ স্পেশাল অফিসারের কাছে গিয়ে বলেন, যে তারাই আসল তৃণমূল এবং তারা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে চান তাহলে কী হবে? ফলত অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ যাতে করা থাকে, তা নিয়ে জোরাল সওয়াল করেন তুষার মেহতা। দু’পক্ষের বক্তব্য শুনেই আদালত এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)