মমতার নির্দেশে অভয়ার ভিসেরার নমুনা নষ্ট! আর জি কর কাণ্ডে প্রকাশ্যে বিস্ফোরক তথ্য
প্রতিদিন | ০২ জুলাই ২০২৬
আর জি করের তরুণী চিকিৎসক মৃত্যুর ঘটনায় (RG Kar Case) একাধিক নথি ও তথ্যপ্রমাণ বিকৃত করার অভিযোগে বারবার সরব হয়েছেন নিহতের বাবা-মা। এবার এক ফরেন্সিক আধিকারিকের গলাতেও একই অভিযোগের সুর। তাঁর দাবি, রাজ্য ফরেন্সিক ল্যাবেই নাকি অভয়ার দেহের নমুনা নষ্ট করা হয়েছে। আর সে কাজ করার নির্দেশ নাকি দিয়েছিলেন খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। অভয়ার বাবাকে একথা উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছেন ওই ফরেন্সিক আধিকারিক।
চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, অভয়ার শরীর থেকে নেওয়া ভিসেরা নমুনা বদলে ফেলা হয়। তরুণী চিকিৎসকের শরীরে কোনও বিষক্রিয়া হয়েছে কিনা, তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নিস্তেজ করা হয়েছিল কিনা তা জানতে লিভার, কিডনি এবং পাকস্থলীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে রাজ্য ফরেন্সিক ল্যাবে নাকি সেই নমুনা সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলা হয় বলেই অভিযোগ। রাজ্য ফরেন্সিক বিভাগে তিন আধিকারিক এই নমুনা বদলের কাজ করেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই কাজ হয়। ওই ‘নষ্ট’ হওয়া নমুনাই নাকি সেন্ট্রাল ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠানো হয়। শুধু অভয়াই নন, বিজেপি, সিপিএম কর্মীদের ভিসেরার নমুনা নষ্টের অভিযোগও উঠেছে ফরেন্সিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। এই চিঠি হাতে পাওয়ামাত্রই আঁতকে ওঠেন নির্যাতিতার বাবা। এই চিঠি শিয়ালদহ আদালতের বিচারকের কাছে জমা দেওয়ার ভাবনায় অভয়ার পরিবার। অবিলম্বে সিবিআইকে এই চিঠির সত্যতা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হোক বলেই আর্জি তাঁর।
গত ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসক নাইট শিফট করতে যান। ওই রাতেই সব শেষ। সেমিনার হলে তাঁকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। পরবর্তীকালে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার নেয় সিবিআই। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নতুন করে আর কাউকে পাকড়াও করেনি। শেষমেশ শিয়ালদহ আদালত ধৃত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। তবে এই তদন্তে সন্তুষ্ট নন অভয়ার বাবা-মা। তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় আরও অনেকেই জড়িত যারা এখনও তদন্তের আড়ালে রয়ে গিয়েছে। বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফের নতুন করে আর জি কর ফাইলস খোলেন। সুবিচার আদৌ কি মিলবে, তথ্যপ্রমাণ নষ্টের বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই উঠছে সে প্রশ্ন।