• গ্রেপ্তার বেলডাঙার তৃণমূল নেতা, কাটমানি থেকে তোলাবাজি, রয়েছে অভিযোগের পাহাড়
    এই সময় | ০২ জুলাই ২০২৬
  • পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার বেলডাঙা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র মোজারুল হক। বিল পাইয়ে দেওয়ার নামে ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মোজারুল বেলডাঙার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়কের ঘনিষ্ঠ।

    বুধবার রাতে বেলডাঙা পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নজরুলপল্লি এলাকার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মোজারুলকে।

    বেলডাঙা থানার দেবকুণ্ডু উত্তরপাড়ার বাসিন্দা পেশায় ঠিকাদার নাজির হোসেন লিখিত অভিযোগ করেন মোজারুল শেখের বিরুদ্ধে। বকেয়া বিলের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ হয়েছে মোজারুলের নামে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    ​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সময়ে তোলাবাজি ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে ধৃত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের একাংশের দাবি, মোজারুল বেলডাঙা পুরসভার কোনও পদে ছিলেন না। তা সত্ত্বেও বেলডাঙার প্রাক্তন বিধায়ক ও তৃণমূলের নেতা হাসানুজ্জামান শেখের প্রতিনিধি বলে পরিচয় দিয়ে তিনি প্রভাব খাটাতেন বলে অভিযোগ। তৃণমূল পরিচালিত বেলডাঙার পুরপ্রধান অনুরাধা হাজরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনও ব্যাপারে আলোচনা করার প্রয়োজন হলেও তাঁর ঘরে ঢোকা যেত না বলে অভিযোগ।

    বেলডাঙা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫-এর মার্চে প্রাক-বর্ষা মরশুমে এলাকার প্রতিটি নিকাশি নালা সংস্কারের জন্য ৬৬ লক্ষ টাকা অনুমোদন করেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। কিন্তু অভিযোগ, সাকুল্যে দুই লক্ষ টাকা খরচ করে ২০০ জনের নামে ভুয়ো মাস্টার রোল তৈরি করে ওই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে মোজারুলের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে বেলডাঙা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রকাশ চন্দ্র বেলডাঙা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্তের আওতায় আসছে সেই অভিযোগও।

    বেলডাঙার চার বারের কাউন্সিলার ও বেলডাঙার বিধায়ক বিজেপির ভরত ঝাওর বলেন, ‘একা হাতে বেলডাঙা পুরসভার যা ক্ষতি করার মোজারুল করেছে। কাটমানি, তোলাবাজি থেকে শুরু করে লক্ষ লক্ষ টাকা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।’

  • Link to this news (এই সময়)