অভয়া কাণ্ডের পরে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছিল পূর্বতন রাজ্য সরকার। শুধু আরজি করের ঘটনা নয়, রাজ্যে একের পর এক মহিলা ও শিশুদের নিগ্রহের ঘটনায় জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ে। রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছিল ‘রাত দখল’ কর্মসূচি। পরিবর্তনের একমাসের মধ্যেই আইন-শৃঙ্খলা ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার থেকেই রাজ্যের প্রতিটি থানায় চালু হলো সাইবার ক্রাইম হেল্প ডেস্ক। পাশাপাশি নারী নিরাপত্তায় প্রতিটা মহকুমায় থাকছে ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’। এ দিন নবান্ন থেকে এই কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আর্থিক তছরুপ, মোবাইল বিভিন্ন মেসেজ পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব করে দেওয়া, ডিজিটাল অ্যারেস্ট— একাধিক সাইবার অপরাধে জর্জরিত বাংলা। যদিও রোগ শুধু এ রাজ্যের নয়, গোটা দেশেরই। সেই কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে সাইবার অপরাধের মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী জানান, একজন ডেডিকেটেড সিনিয়র আধিকারিক (এডিজি বা আইজি পদমর্যাদার) নিয়োগ করা হবে। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পুরো রাজ্যের সাইবার পুলিশ স্টেশন ও হেল্পডেস্ক তদারকি করবেন। এই বিভাগকে উন্নত করার জন্য সমস্ত আধুনিক ও লজিস্টিকের সহায়তা প্রদান করা হবে।
নারী সুরক্ষায় রাজ্যের প্রতিটি থানায় মহিলা ‘হেল্প ডেস্ক’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রাথমিক ভাবে, ৫০০টি থানায় এই হেল্প ডেস্ক চালু করা হচ্ছে। প্রতিটি হেল্প ডেস্ক-এ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলা পুলিশ আধিকারিকরা থাকবে। যে কোনও অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে মহিলারা যাতে সংকোচ ছাড়াই অভিযোগ জানাতে পারেন, তার জন্যেই থাকবে এই হেল্প ডেস্ক।
মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে জরুরি নম্বরে ফোন এলে গড়ে ৬ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যায় পুলিশ। এই রাজ্যে সেটা গড়ে প্রায় তিন ঘণ্টা। সময়ের ব্যবধান কমিয়ে আনার পক্ষপাতি সরকার। আগামী বাজেটে ১১২ পরিষেবার জন্য গাড়ির সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।