: একই দিনে উত্তরবঙ্গের দুই জেলায় দু’টি হাতির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে বৃহস্পতিবার উদ্ধার হয়েছে দুই হাতির মৃতদেহ। কী কারণে এই মৃত্যু, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি বন দফতর। আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে বনকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার সকালে আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম এলাকায় একটি পূর্ণবয়স্ক হাতিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে বন দফতর। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলপাইগুড়ি বন বিভাগের অধীন তিস্তা নদীর চর সংলগ্ন বানিয়াপাড়া এলাকা থেকেও আরও একটি হাতির মৃত্যুর খবর সামনে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত প্রায় এক মাস ধরে ৪০ থেকে ৫০টি হাতির একটি দল তিস্তা নদীর চর এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। কখনও রাধামালি, কখনও পাহাড়পুর এলাকায় দেখা মিলছিল ওই হাতির দলের।
স্থানীয়দের দাবি, হাতির দলটি তিস্তার চর এলাকায় খাবারের সন্ধানেই আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই দলেরই একটি হাতিকে নদীর চরে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এলাকার বাসিন্দারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বন দফতরের কর্মীরা এবং মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু হয়। তবে ঠিক কী কারণে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বন দফতরের প্রাথমিক বক্তব্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অনুমান, সাম্প্রতিক বজ্রবিদ্যুতের জেরেও এই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা নিমু দাশ জানান, গত কয়েকদিন ধরেই ওই হাতির দল এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল।
তাঁর কথায়, গতকাল রাতেও হাতিগুলিকে তিস্তার চরে খাবার খেতে দেখা গিয়েছে। তার আগের দিন এলাকায় প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি হয়েছিল। সেই কারণেও হাতিটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের অনুমান। একই দিনে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে দু’টি হাতির অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে বন দফতর এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।