• ‘এন্টালিতে ঢোকার সাহস নেই, তাই দিল্লি যাচ্ছেন’, সন্দীপনকে খোঁচা প্রিয়াঙ্কার
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেছে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবির। বৃহস্পতিবার দুপুরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করেন ঋতব্রতপন্থী ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল। সেই প্রতিনিধিদলে ছিলেন ৯ জন বিধায়ক এবং একজন প্রাক্তন মন্ত্রী। সেই প্রতিনিধিদলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন সন্দীপন সাহা। সেই সন্দীপনের বিরুদ্ধেই এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। যদিও নির্বাচনে তিনি জয়ের মুখ দেখেননি।

    বৃহস্পতিবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বাকিদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের প্রশ্ন, ‘যাঁরা দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করছেন, তাঁরাই কি আসল তৃণমূল? নাকি যাঁরা কালীঘাটে বসে রয়েছেন, তাঁরাই আসল?’

    দিল্লিতে সন্দীপন সাহার উপস্থিতি নিয়েও প্রিয়াঙ্কা কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘টিকিট কেটে তিনি দিল্লি যেতে পারছেন, কিন্তু নিজের বাড়ি চৌরঙ্গী থেকে এন্টালিতে ঢোকার সাহস পাচ্ছেন না।’ তাঁর অভিযোগ, সন্দীপন সাহা নাকি গুণ্ডা লেলিয়ে দিয়ে বলছেন, ‘আগে প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালকে ঘিরে ধরা হোক। তারপর তিনি এন্টালিতে ঢুকবেন।’

    সম্প্রতি বিদ্রোহী তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এবং বিধানসভার স্পিকারের একাধিক বৈঠক হয়েছে। আর তা নিয়েই প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী আমার কাজ দেখেছেন। তিনি জানেন আমি কীভাবে মানুষের জন্য কাজ করেছি। মুখ্যমন্ত্রী ঋতব্রতের সেই ভিডিও দেখেছেন, যেখানে তিনি বালিশ ছাড়তে চাইছিলেন না।’ এরপরই তৃণমূলকে নিশানা করে প্রিয়াঙ্কার কটাক্ষ, ‘তৃণমূল বলে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ‘অল’ও শেষ, ‘ইন্ডিয়া’ও নেই। জাতীয় দলের স্বীকৃতি আগেই চলে গিয়েছে। এখন শুধু ‘অল কালীঘাট পার্টি’ই বেঁচে রয়েছে।’

    সাম্প্রতিক ডিম ছোড়ার ঘটনাকেও হাতিয়ার করে শাসকদলকে আক্রমণ করেন প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। তাঁর বক্তব্য, ‘তৃণমূল বিগত বছরগুলোতে যা যা করেছে, তার তুলনায় ডিম ছোড়া খুবই সামান্য ঘটনা। রাজ্যে যদি আইনের শাসন না থাকত, তাহলে মানুষ ইসলামিক দেশগুলোর মতো পাথর ছুড়ত।’  তবে এর পাশাপাশি তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকেও তিনি নিশানা করেছেন। প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘সেদিন মহুয়া মৈত্র এত বড় বড় কথা বলছিলেন, তাহলে তিনি নিচে নেমে মানুষের মুখোমুখি হলেন না কেন? ক্যামেরার সামনে সুন্দর করে কথা বলা খুব সহজ। কিন্তু রাস্তায় নেমে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা ততটা সহজ নয়।’

    মহুয়া মৈত্রর সাম্প্রতিক মন্তব্যও বিজেপি নেত্রী তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, ‘এখন মহুয়া মৈত্র বলছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর নাকি খুব ভালো সম্পর্ক। অথচ শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁকেই সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করতেন মহুয়া মৈত্ররা।’ প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল গোটা ঘটনাকেই ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)