• নদিয়া জেলাপরিষদে ‘মহাবিদ্রোহ’, অনাস্থা প্রস্তাব বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর, পদচ্যুত সভাধিপতি
    প্রতিদিন | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • নদিয়া (Nadia) জেলা পরিষদের সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা। গৃহীত হল তৃণমূলের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব। ৩৭ জন তৃণমূল সদস্যের মধ্যে ৩১ জনই সভাধিপতির বিরুদ্ধে ভোট দেন ( ৫২ সদস্যের নদিয়া জেলা পরিষদে ৪৬টি আসনই তৃণমূলের)। তাঁদের অভিযোগ জেলা সভাধিপতি দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদে সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিচালনা করছিলেন। তাতেই জেলাসভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ অংশ অবশ্য জানিয়েছে তাঁদের এই সিদ্ধান্ত দলের বিরুদ্ধে নয়। জেলাসভাধিপতির একনায়কতান্ত্রিক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনোভাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

    ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ জুন। সেই দিন জেলা পরিষদের মোট ৫২ জন সদস্যের মধ্যে তৃণমূলের ২৭ জন সদস্য সভাধিপতি তারান্নুমের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্সি ডিভিশনের কমিশনারের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদের তারকদাস বন্দ্যোপাধ্যায় সভাকক্ষে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোটাভুটিতে দেখা যায়, সভাধিপতির বিরুদ্ধে অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনাস্থার পক্ষে সমর্থনকারী সদস্যের সংখ্যা ২৭ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৩১-এ। সভায় উপস্থিত ৩৭ জন সদস্যের মধ্যে ৩১ জনই সভাধিপতির অপসারণের পক্ষে ভোট দেন। উপস্থিত বিজেপির ৬ জন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন। ভোটাভুটির পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সজলকুমার বিশ্বাস ও একাধিক বিক্ষুব্ধ কর্মাধ্যক্ষ সভাধিপতির বিরুদ্ধে একনায়কতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগ তোলেন।

    সভাধিপতি অপসারিত হওয়ায় প্রশাসনিক কাজ সচল রাখতে সাময়িকভাবে একজন প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, এডিএম (উন্নয়ন) আগামী তিন দিনের মধ্যে বৈঠকের কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবেন। এরপর পাঁচ দিনের মধ্যে ডিভিশনাল কমিশনার চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করে জেলাশাসকের কাছে পাঠাবেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে জেলাশাসক নতুন সভাধিপতি নির্বাচনের দিন ঘোষণা করবেন। আইন অনুযায়ী আগামী ২১ দিনের মধ্যেই নতুন সভাধিপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)