ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অফ ৩২-এ পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার হাইভোল্টেজ লড়াই ঘিরে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দো ও লুকা মদ্রিচের মহারণ দেখতে ক্যানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে ভিড় করবেন হাজার হাজার দর্শক। এই ম্যাচটা যতটা না টিকে থাকার তার থেকেও বেশি হচ্ছে একজন মহাতারকার শেষ বিশ্বকাপ দেখার। তবে আবেগের থেকেও এই ম্যাচের আগে বেশি আলোচনায় ক্যানাডার গরম। যা নিয়ে সমর্থকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে ক্যানাডার আবহাওয়া বিভাগ ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
জানানো হয়েছে, তীব্র দাবদাহের কারণে ম্যাচের দিন তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে, আর আর্দ্রতার কারণে তা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হতে পারে।
টরন্টো স্টেডিয়ামে ভারতীয় সময় শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটের সময় শুরু হবে ম্যাচটি। চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে ছোট ভেন্যু হলেও এই মাঠেই শেষবারের মতো বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ফলে স্টেডিয়ামের পাশাপাশি শহর জুড়ে ফ্যান জোন ও ওয়াচ পার্টিতেও উপচে পড়া ভিড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
টরন্টোর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিশেল মূর্তি দর্শকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘জল তেষ্টা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। সারাদিন নিয়মিত জল খান। অ্যালকোহল যতটা সম্ভব কম পান করুন, কারণ এটি শরীরের জলের চাহিদা আরও বাড়িয়ে দেয়।’ তিনি আরও জানান, প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে কিছু ওয়াচ পার্টি বা জমায়েতের রাশ টানা হতে পারে।
ক্যানাডার আবহাওয়া সংস্থাও জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের পর্যাপ্ত জল, হাল্কা পোশাক এবং সূর্যের তাপ আটকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে টরন্টোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দর্শকদের স্বস্তি দিতে মিস্টিং স্টেশন (জলের ফোয়ারা) বসিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দা মেগান রেনি বলেন, ‘খেলা দেখতে এসেছি, কিন্তু এত গরম যে বেশিক্ষণ বাইরে থাকা কঠিন। খেলোয়াড়দের অবস্থাও কেমন হবে, সেটা ভাবতেই পারছি না।’
অন্যদিকে, কলম্বিয়া থেকে আসা পর্যটক লরা আলভারেজ জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে তিনি আপাতত হোটেলে বিশ্রাম নেবেন এবং আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবার বাইরে বের হবেন।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত নকআউট ম্যাচগুলোর একটি ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়লেও, দর্শকদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার বিষয়টিকেই এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে আয়োজকরা।