• টেলিপর্দায় হাড়হিম করা আরজি কর কাণ্ড! ‘তিলোত্তমা’র হাত ধরে ঘর ওয়াপসি সুস্মিতার
    প্রতিদিন | ০২ জুলাই ২০২৬
  • সাল ২০২৪, ৯ অগাস্ট। তোলপাড় শহর কলকাতা। শহরের সরকারি হাসপাতাল আরজি করে কর্মরত এক মহিলা পড়ুয়া চিকিৎসককে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন। হাড়হিম করা এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিবাদের ঝড়। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও আছড়ে পড়েছিল প্রতিবাদের রেশ। ন্যায় বিচারের দাবিতে ঝড়, বৃষ্টি উপেক্ষা করে পায়ে পা মিলিয়েছিল আবালবৃদ্ধবনিতা। মেয়েদের ‘রাতদখল’-এর মতো এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছে জগৎজননী। খাস কলকাতার তরুণী চিকিৎসকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে নির্যাতিতার ছদ্মনাম হিসেবে নামকরণ করা হয় ‘তিলোত্তমা’।

    এই আরজি কর কাণ্ড আজও প্রতি মানুষের হৃদয়ে টাটকা। প্রতিবাদ, প্রতিরোধ থেকে ন্যায় বিচারের লড়াই জারি। এর মাঝেই স্টার জলসার পর্দায় আসছে ‘তিলোত্তমা’। এই মেগার হাত ধরে ঘর ওয়াপসি অভিনেত্রী সুস্মিতা দে-র। বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে এসেছে এই ধারাবাহিকের প্রোমো। যেখানে দেখা যাচ্ছে একদিকে ছাদনাতলায় বধূবেশে তো অন্যদিকে আবার ব্যালে নৃত্যশিল্পী (ডান্সার)। এ থেকে স্পষ্ট এই ধারাবাহিকে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করবেন সুস্মিতা।

    এছাড়াও রয়েছে আরও এক চমক, আর সেটা হল তিনি একজন চিকিৎসক। যাঁর কপালে চন্দনের ফোঁটা আর লাল বেনারসী পরে জীবনের এক নতুন ইনিংস শুরুর অপেক্ষায়। কিন্তু, আচমকাই বিয়ের আসর ছেড়ে হাসপাতালে পৌঁছান। রাতের অন্ধকারে হাসপাতালে চলা দুর্নীতির প্রমাণ হাতে আসতেই সেখানে উপস্থিত দুষ্কৃতি। বিপদের আঁচ পেয়েই ব্যালে নৃত্যশিল্পীকে বিষয়টা কোনওক্রমে জানানোর সুযোগ পান। কিন্তু, শেষরক্ষা হল না।

    হাসপাতালের ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর বদলা নিতে সেখানে আসে সেই নৃত্যশিল্পী। নিজেকে তিলোত্তমা বলে পরিচয় দেন। তারপর…? সুস্মিতা বলেন, “এটা সম্পূর্ণ স্বাধীন একটা গল্প। এর সঙ্গে আরজি কর কাণ্ডের কোনও সংযোগ নেই। প্রথমবার দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করছি। এটা আমার কাছে নতুন একটা অভিজ্ঞতা। চিকিৎসকের ভূমিকার পাশাপাশি আমি একজন ব্যালে ডান্সার। এটা আমার কাছে বিরাট বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যালে ডান্সারের জন্য প্রতিদিন প্র্যাকটিস করতে হচ্ছে। এটা রপ্ত করতে একটু সময় লাগবে।”

    আরও বলেন, “আমার চরিত্রটা এখানে যমজ বোনের। এক বোন চিকিৎসক অপরজন ডান্সার। এই মেগায় প্রথমবার দর্শক আমাকে অ্যাকশন করতে দেখবে।” চিকিৎসকের চরিত্রকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করছেন প্রযোজনা সংস্থা ব্লুজের কর্ণধার স্নেহাশিস চক্রবর্তী। প্রতিটি মেগায় চরিত্রের লুকের আকাশ পাতাল পরিবর্তন ঘটছে। নিজেকে কতটা পরিণত মনে হচ্ছে?

    ফোনের ওপারে মিষ্টি হেসে সুস্মিতার জবাব, “এটা আমার কেরিয়ারের জন্য ভীষণ ভালো। দর্শকের ভালোবাসায় বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজের সুযোগ পাচ্ছি। নিজের সেরাটুকু দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব। যাতে দর্শকের মনোরঞ্জনে কোনও খামতি না থাকে।” ধারাবাহিকের প্রয়োজনে আউটডোর শুটিংয়ে যেতে কোনও দ্বিধা রয়েছে?

    সুস্মিতা জানান, “এখন আমাদের আগের তুলনায় আরও অনেক বেশি প্রোটেকশন দেওয়া হয়। তাছাড়া চরিত্রের প্রয়োজনে তো যেতে হবেই। আশা করি সব ভালোই হবে।” সুস্মিতার বিপরীতে দেখা যাবে নবাগত সৌম্যদীপ দত্তকে।

    বেশ কয়েকটি ধারাবাহিকে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছেন। নায়ক হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম কাজ। সৌম্যদীপ প্রসঙ্গে সুস্মিতার সংযোজন, “লুক সেটের সময় প্রথম কথা হয়েছে। ধীরে ধীরে কাজ করার সময় আরও ভালোভাবে চিনতে পারব।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)