• তৃণমূল–শিবসেনার ভাঙনে বিল পাশে লাভের অঙ্ক দেখছে এনডিএ
    এই সময় | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • প্রথমে তৃণমূল এবং পরে শিবসেনা— দু’টি বিজেপি বিরোধী দলের মোট ২৬ জন লোকসভা সাংসদ শিবির পরিবর্তন করে এনডিএ শিবিরকে সমর্থন জানানোর ঘোষণার পর থেকেই ঘর গুছোতে শুরু করেছিল কেন্দ্রের শাসক শিবির৷ এ বার সেই তত্‍পরতা একেবারে তুঙ্গে উঠেছে বলেই সরকারি সূত্রে দাবি৷ চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হবে সংসদের বাদল অধিবেশন৷ এই অধিবেশনেই একাধিক সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর অঙ্ক কষতে গিয়ে এখন যথেষ্ট সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে সরকার পক্ষ, এমনই দাবি সরকারি সূত্রে৷ সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর জন্য লোকসভা এবং রাজ্যসভায় শাসক শিবিরের দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন৷ এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার কারণেই গত এপ্রিলে মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করতে গিয়ে লোকসভায় হোঁচট খেয়ে থমকে যেতে হয়েছিল শাসক শিবিরকে৷ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অঙ্ক বদল হয়েছে প্রচুর৷ সরকারি সূত্রের দাবি, লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সাংসদ সংখ্যা জোগাড় করতে এখন এনডিএ শিবিরের আর কোনও সমস্যা হবে না৷

    তৃণমূল এবং শিবসেনা (উদ্ধব)-এর ভাঙনের পরে এনডিএ-র পক্ষে এখন ৩১৯ জন লোকসভা সাংসদের সমর্থন আছে৷ লোকসভার মোট আসন সংখ্যা ৫৪৩৷ এর মধ্যে তিনটি আসন খালি৷ এখন ৫৪০টি আসনের মধ্যে দুই–তৃতীয়াংশের অর্থ হলো ৩৬০ জন সাংসদের সমর্থন পাওয়া৷ এই পরিস্থিতিতে এনডিএ শিবিরের ৪১ জন সাংসদের সমর্থন কম পড়তে পারে৷ ডিএমকে-র ২২ জন লোকসভা সাংসদের সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে এনডিএ শিবির অত্যন্ত আশাবাদী৷ এর পরে শাসক শিবিরের আরও ১৯ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন৷ জগন্মোহন রেড্ডির ওয়াইএসআরসিপি-র চার জন সাংসদ শাসক শিবিরকেই সমর্থন করতে প্রস্তুত৷ তা হলে দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার লক্ষ্যে পৌঁছনোর ব্যবধান কমে দাঁড়াচ্ছে ১৫-তে৷ এর পরে লোকসভায় পাঁচ জন নির্দল সাংসদ শাসক শিবিরকেই সমর্থন করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী বিলে শাসক শিবিরের পক্ষে ভোটদান করবে, এমন দাবিই জানানো হয়েছে এনডিএ সূত্রে৷ জনা দশেক সাংসদের ব্যবধান দূর করা খুব একটা সমস্যার হবে না বলেই মনে করছে শাসক শিবিরের একটা বড় অংশ৷

    শাসক শিবির সূত্রের দাবি, এপ্রিল থেকে জুন—টানা তিন মাসের ‘ট্র্যাক টু ডিপ্ল্যোম্যাসি’র জেরে বিরোধী শিবিরের সদস্য অনেকগুলি রাজনৈতিক দলই এখন শাসক শিবিরকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু–ভিত্তিক সমর্থন দিতে প্রস্তুত৷ প্রয়োজনে লোকসভা কক্ষে ভোটাভুটির সময়ে এই দলগুলির সাংসদরা বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সভাকক্ষে অনুপস্থিত থাকতে পারেন৷ এর ফলে লাভবান হতে পারে শাসক শিবির৷ দুই–তৃতীয়াংশের প্রয়োজনীয় লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে তাদের বেগ পেতে হবে না৷ কারণ বিরোধী শিবিরের সাংসদদের অনুপস্থিতির জেরে দুই–তৃতীয়াংশর ম্যাজিকাল ‘কাট অফ ফিগার’ তখন অনেক কমে যাবে৷ এই আবহে সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে কোথাকার জল কোথায় গড়ায় সে দিকেই চোখ থাকবে সকলের৷

  • Link to this news (এই সময়)