নদিয়া জেলা পরিষদে ‘বিদ্রোহ’!
তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত জেলা পরিষদের সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন দলের নির্বাচিত সদস্যরাই। তাঁদের আনা সেই অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটিতে অপসারিত হলেন নদিয়া (Nadia) জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীর।
জেলা পরিষদের সভাধিপতির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করে অনাস্থা আনেন তাঁরই দলের সদস্যরা। এই বিদ্রোহী অংশের দাবি, তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কোনও অনাস্থা আনেননি। জেলা পরিষদের সভাধিপতির একনায়কতান্ত্রিক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ এবং স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েই এই অনাস্থা আনেন তাঁরা বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের বিদায়ী সহ-সভাধিপতি সজলকুমার বিশ্বাস। যদিও, বৃহস্পতিবার সভাধিপতির পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পরে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারান্নুম সুলতানা মীর। দলের একাংশের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগও করেছেন তিনি।
৫২ আসন বিশিষ্ট নদিয়া জেলা পরিষদে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য ৪২ জন। বিজেপির সদস্য ৬ জন। জানা গিয়েছে, গত ১৫ জন তৃণমূল কংগ্রেসের ২৭ জন সদস্য সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। সভাধিপতির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্সি ডিভিশনের কমিশনারের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার এই নিয়ে তলবি সভায় ভোটাভুটি হয়। তবে বিরত ছিলেন বিজেপি সদস্যরা। ভোটাভুটিতে অনাস্থার পক্ষে সমর্থন করেন ৩১ জন।
এর ফলে ভেঙে গেল নদিয়া জেলা পরিষদের বোর্ড। নিয়ম মেনে ২১ দিনের মধ্যে সেখানে নতুন সভাধিপতি নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। আপাতত জেলা পরিষদ পরিচালনার জন্য প্রশাসক বসানো হচ্ছে। সেখানে এর পরে সভাধিপতি এবং সহকারী সভাধিপতি বসানো বা নির্বাচিত করা হবে কি না তা ঠিক করবে রাজ্য সরকার বলে জানিয়েছেন বিদ্রোহী সদস্যরা।
ভোটাভুটির পরেই তারান্নুমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন জেলা পরিষদের তৃণমূলের বিদ্রোহী সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে জেলা পরিষদ চালাচ্ছিলেন সভাধিপতি। সাধারণ সদস্যদের মতামতকে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হতো না। তবে তাঁদের লড়াই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নয় বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। নিজেদেরকে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী এবং সৈনিক বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
যদিও তারান্নুমের দাবি, তিনি সকলের মত নিয়ে এক সঙ্গে কাজ করেছেন। এই অনাস্থা আনার পিছনে কার হাত বা মদত রয়েছে তাও তিনি জানেন। দলকে জানিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।