• দেবরাজকে তাক করে মারা ডিম লাগল পুলিশের গায়ে
    এই সময় | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়, বারাসত: খানিকটা কাজ হলো বটে, তবে ডিম ছোড়ার ট্রেন্ডে পুরোপুরি দাঁড়ি টানা গেল না। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, তোলাবাজি, আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পত্তি, নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় মিথ্যে তথ্য দেওয়ার মতো অভিযোগে ধৃত বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীকে বুধবার গ্রেপ্তারের পরে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলে পুলিশ। তাঁকে লক্ষ্য করে যাতে ডিম ছোড়া না–হয়, সে জন্য এ দিন আগাগোড়া সক্রিয় ছিলেন পুলিশকর্মীরা। তবে তাতেও উড়ে এল ডিম। তা দেবরাজের গায়ে লাগেনি ঠিকই, কিন্তু আছড়ে পড়েছে পুলিশকর্মীদের উর্দিতে।

    তথাকথিত 'ডিম–থেরাপি' নিয়ে বুধবারই উষ্মাপ্রকাশ করে কড়া পদক্ষেপের কথা বলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই প্রবণতার নিন্দা করেছেন। তাতেও 'ডিম্বাস্ত্রে' রাশ টানা যায়নি। সেই ট্রেন্ডের পুনরাবৃত্তি হয়েছে বৃহস্পতিবারও। তোলাবাজি এবং সংগঠিত অপরাধের মামলায় এ দিন কড়া পাহারায় দেবরাজকে বারাসতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কোর্টে নিয়ে যাওয়া হয়। বাগুইআটি এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের জন্য এক প্রোমোটারের থেকে ৩০ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে দেবরাজের বিরুদ্ধে। ওই প্রোমোটার পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। পুরো টাকা না দেওয়ায় দেবরাজ কাজ বন্ধ করিয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সেই মামলায় এ দিন দেবরাজকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে কোর্ট।

    এ দিন দেবরাজকে আদালতে আনার খবর ছড়াতেই কোর্ট চত্বরে ভিড় জমান অনেকে। ছিলেন বেশ কয়েক জন আইনজীবীও। বিপুল সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা ছিল র‍্যাফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোর্ট লক-আপের রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করেছিল পুলিশ। বিশেষ করে ডিম যাতে উড়ে না আসে, সে দিকে ছিল নিরাপত্তারক্ষীদের বিশেষ নজর।

    তবু হাতে হাতে এ দিন ঘুরেছে ডিম। কোর্ট লক-আপের বাইরে রুমালে জড়িয়ে দুটো ডিম নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন আইনজীবী মিলি বিশ্বাস। কোনও ভাবে সে খবর পেয়ে যায় পুলিশ। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ঘিরে ধরেন বারাসত থানার আইসি–সহ কয়েক জন পুলিশকর্মী। তাঁরা মিলিকে বলেন ডিম দিয়ে দিতে। প্রথমে রুমালে ডিম থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি। কিন্তু পরে র‍্যাফের এক মহিলা কর্মী রুমাল কেড়ে নিতে গেলে একটি ডিম মাটিতে পড়ে ফেটে যায়। দ্বিতীয় ডিমটি পুলিশ নিয়ে নেয়। যদিও মিলি বলেন, 'তৃণমূলের একটা চোরকে পুলিশ কেন এত নিরাপত্তা দিচ্ছে? আমি লাঞ্চের জন্য দুটো ডিম এনেছিলাম। পুলিশ কেড়ে নিয়েছে। এ সব করে কিন্তু ডিম থেরাপি আটকানো যাবে না।'

    এ দিন বিকেল তিনটে নাগাদ বারাসত আদালতে পুলিশি ঘেরাটোপে আনা হয় দেবরাজকে। তাঁর গাড়ি কোর্ট চত্বরে পৌঁছতেই জমে যায় একটি বিশাল জটলা। গাড়ি থেকে পুলিশ দেবরাজকে নামাতেই সেই ভিড় থেকে উড়ে আসতে শুরু করে ডিম।

    আগামী ১৮ তারিখ এই মামলায় অভিযোগকারীর গোপন জবানবন্দি নেওয়া হবে। এ দিন দেবরাজকে কোর্টে তোলা হলে সরকার পক্ষের বিশেষ আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় ও লাবণ্য জানা আদালতে জানান, ধৃতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক সংগঠিত অপরাধ ও তোলাবাজির মামলা রয়েছে। এখনও বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসা বাকি। বিশেষ করে সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের হেফাজত চাওয়া হলেও বিচারক সাত দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন।

  • Link to this news (এই সময়)