• সাংগঠনিক কাঠামো তৈরিতে জোর, রাজ্য ও জেলা সভাপতি বেছে নিতে প্রস্তুতি ঋতব্রতদের
    এই সময় | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৃহস্পতিবারই দেখা করেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’ বলে সেখানে সওয়াল করেছেন ঋতব্রতরা। কমিশনের কাছ থেকে স্বীকৃতি আদায়ের লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজ্যে দ্রুত সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনেও উদ্যোগী হয়েছে বিদ্রোহী শিবির। গত ২২ জুন বিদ্রোহী শিবির নিউ টাউনে বিশেষ অধিবেশন ডেকে ‘জাতীয় কর্মসমিতি’ তৈরি করেছে। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায় হয়েছেন সর্বভারতীয় চেয়ারম্যান। কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন আখরুজ্জমান। ঋতব্রত, সন্দীপন সাহা, সাবিনা ইয়াসমিনরা বিভিন্ন পদাধিকার পেয়েছেন। কিন্তু বিদ্রোহী তৃণমূল এখনও রাজ্য সভাপতি, রাজ্যের কর্মসমিতি, জেলা সভাপতি, শাখা সংগঠনের নেতৃত্বের নাম চূড়ান্ত করতে পারেনি। তবে দিল্লিতে জ্ঞানেশের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে বিদ্রোহী শিবির এ বার দ্রুতই রাজ্য সভাপতি, জেলা সভাপতি–সহ অন্য পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা করতে চাইছে।

    বিদ্রোহী শিবিরের প্রথম সারির এক নেতার কথায়, ‘রাজ্য সভাপতি কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। রাজ্যের প্রাক্তন কোনও মন্ত্রী, যাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে, এমন কেউ এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। এই বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।’ প্রসঙ্গত, বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ, জাভেদ খান, বিপ্লব মিত্র, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, শিউলি সাহার মতো প্রাক্তন মন্ত্রীরা রয়েছেন। এঁদের কয়েক জন অবশ্য ইতিমধ্যে বিদ্রোহী তৃণমূলের সর্বভারতীয় পদ পেয়েছেন। ওই শিবিরের এক নেতার পর্যবেক্ষণ, ‘সর্বভারতীয় পদ নেই, এমন কোনও প্রাক্তন মন্ত্রী রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।’

    বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে ঋতব্রত–সন্দীপনকে সামনে রেখে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক এবং কাকলি ঘোষদস্তিদারকে সামনে রেখে ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী হওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরও অবশ্য ইতিমধ্যে জাতীয় কর্মসমিতি, রাজ্য কর্মসমিতি, শাখ সংগঠনের নেতৃত্বে রদবদল করেছে। নতুন রাজ্য সভাপতি, কোষাধ্যক্ষের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু জেলাতেও নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। গত ২২ জুনই তৃণমূলের কা‍লীঘাট শিবির পুনর্গঠিত জাতীয় কর্মসমিতির ২৪ জন সদস্যের নাম নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। কিন্তু মমতাকে চিঠি দিয়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কর্মসমিতি ছেড়ে দিয়েছেন। আবার পূর্ব বর্ধমানে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, পশ্চিম বর্ধমানে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়েও ছেড়ে দেন। নরেন্দ্রনাথ উল্টে বিদ্রোহী শিবিরের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কালীঘাট তৃণমূল যেখানে পদাধিকারীদের সবাইকে ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সেখানে বিদ্রোহী তৃণমূল দ্রুত রাজ্য সভাপতি, জেলা সভাপতিদের নাম ঘোষণা করে জোড়াফুলের মূল স্রোত তাঁদের সঙ্গে রয়েছে বলে বার্তা দিতে চাইছে।

    বিদ্রোহী শিবিরের এক নেতার কথায়, ‘জেলা সভাপতিদের নাম নিয়ে আলোচ‍না চলছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সভাপতি হতে পারেন শুভাশিস দাস। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একটি অংশের দায়িত্ব বুরহানুল মুকাদ্দিমকে (লিটন) দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’ উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব প্রাক্তন কোনও কাউন্সিলারকে দেওয়া যায় কি না—তা নিয়েও আলোচনা চলছে বলে বিদ্রোহী শিবির সূত্রের খবর। ওই শিবিরের এক নেতার কথায়, ‘হাওড়ায় অরুণাভ সেন, পশ্চিম বর্ধমানে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, উত্তর দিনাজপুরে কানাইলাল আগরওয়াল, হুগলিতে স্নেহাশিস চক্রবর্তীর মতো অনেকে আমাদের সঙ্গে রয়েছেন যাঁদের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।’ ঋতব্রত–সন্দীপনদের টিম বৃহস্পতিবার রাতেই দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সাংগঠনিক দায়িত্ব বন্টন হয়ে যেতে পারে বলে বিদ্রোহী শিবির সূত্রের খবর।

  • Link to this news (এই সময়)