এই সময়: দেশের সব ওষুধের জন্যে একটি অভিন্ন ও উন্নত তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে 'জাতীয় ড্রাগ রেজিস্ট্রি' চালু করল স্বাস্থ্য মন্ত্রক। সরকারের দাবি, এর ফলে চিকিৎসক, হাসপাতাল, ফার্মেসি এবং বিভিন্ন ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবায় ওষুধ সংক্রান্ত তথ্যের অসঙ্গতি কমবে। একই সঙ্গে ই-প্রেসক্রিপশন, স্বাস্থ্য–নথি সংরক্ষণ এবং তথ্য আদানপ্রদান আরও নির্ভুল ও সহজ হবে।
এতদিন দেশে একই জেনেরিক ওষুধ বিভিন্ন সংস্থার একাধিক ব্র্যান্ডনেমে বাজারজাত হওয়ায় ওষুধের পরিচয়, উপাদান এবং প্রস্তুতকারক সংস্থা সংক্রান্ত তথ্য কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যের আলাদা আলাদা ডেটাবেসে ভিন্ন ভাবে নথিভুক্ত হতো। ফলে হাসপাতালের সফটওয়্যার, ই-প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থা এবং অন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবার তথ্য মিলিয়ে দেখা বা আদানপ্রদানে সমস্যা হতো। একই ওষুধের একাধিক নাম থাকায় বিভ্রান্তির আশঙ্কাও থাকত। নতুন ড্রাগ রেজিস্ট্রির মাধ্যমে সেই সমস্যা দূর করে দেশের সব ওষুধের জন্যে একটিই 'ভেরিফায়েড' তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা কেন্দ্রের লক্ষ্য।
আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন (এবিডিএম)-এর অধীনে তৈরি এই রেজিস্ট্রি কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও) এবং পুনের ন্যাশনাল রিসোর্স সেন্টার ফর ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড স্ট্যান্ডার্ডস–এর যৌথ উদ্যোগে গড়ে উঠেছে। এই রেজিস্ট্রি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড স্নোমেড–সিটি (সিস্টেমাটাইজ়ড নমেনক্লেচার অফ মেডিসিন–ক্লিনিক্যাল টার্মস)-র ভিত্তিতে তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন ডিজিটাল হেলথ প্ল্যাটফর্মে তথ্য আদানপ্রদান সহজ হবে বলে দাবি স্বাস্থ্য মন্ত্রকের।
বর্তমানে এই রেজিস্ট্রিতে ১.২৩ লক্ষেরও বেশি ব্র্যান্ডেড ওষুধ, ১০ হাজারের বেশি জেনেরিক ওষুধ এবং ২৯ হাজারেরও বেশি ওষুধ-উপাদানের তথ্য রয়েছে। জেনেরিক নাম, ব্র্যান্ডের নাম, সক্রিয় উপাদান বা প্রস্তুতকারক সংস্থার নাম দিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধের তথ্য খুঁজে পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে হাসপাতালের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এইচএমআইএস), ই-প্রেসক্রিপশন এবং আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের অন্য পরিষেবার সঙ্গেও এই রেজিস্ট্রি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের।
বুধবার চিকিৎসক দিবসের অনুষ্ঠানে ড্রাগ রেজিস্ট্রি উদ্বোধনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা আয়ুষ্মান সারথী হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট, ইউনিফায়েড হেলথ ইন্টারফেস, ছোট ক্লিনিকের জন্য eSushrut@Clinic ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নথির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আরোগ্য সেতু ২.০-র সূচনা করেন।