সবে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। সেই সময়েই নদিয়ার নবদ্বীপের মণিপুরে সুপারি ব্যবসায়ী অশোক অধিকারীর বাড়ি ও গোডাউনে পৌঁছে হানা দিলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তদন্তকারীরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। সূত্রের খবর,মানি লন্ডারিংয়ের একটি মামলার তদন্তে শুক্রবার সকালে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুপারি ব্যবসায় অশোক অধিকারী এলাকায় পরিচিত নাম। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, অসম ও ত্রিপুরাতেও তাঁর ব্যবসা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বহু বছর ধরে তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ফলে ইডির তল্লাশি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এ দিন ভোর প্রায় পাঁচটা নাগাদ অশোক অধিকারীর বাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারীরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। প্রথমে বাড়ি এবং সংলগ্ন গোডাউন ঘিরে ফেলা হয়। এরপর শুরু হয় নথিপত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খতিয়ে দেখার কাজ। গোডাউনেও আলাদা করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ইডি সূত্রে খবর, মানি লন্ডারিংয়ের একটি মামলার তদন্তে অশোক অধিকারীর সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই তাঁর বাড়ি ও ব্যবসা সংক্রান্ত একাধিক নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রয়োজনীয় নথি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে বলেও সূত্রের দাবি।
তদন্তে যাতে কোনও বাধা না আসে, তার জন্য বাড়ির বাইরে মোতায়েন রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তদন্তকারী দলের সঙ্গে ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন বলে সূত্রের খবর। যাতে প্রয়োজন হলে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি যাচাই করতে অসুবিধা না হয়।
ইডির এই তল্লাশি কতক্ষণ চলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই সকাল থেকেই অশোক অধিকারীর বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত এই তল্লাশি নিয়ে ইডি বা অশোক অধিকারীর পরিবারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।