• দুর্গাপুরে ভয়াবহ পরিণতি! নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ
    আজকাল | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্কঃ দুর্গাপুরে এক নাবালিকাকে ঘিরে ঘটে গেল হাড়হিম করা ঘটনা। মেলায় বেড়াতে গিয়েই ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এক আদিবাসী কিশোরীকে। অভিযোগ, তাকে একা পেয়ে জোর করে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে যায় চার যুবক। এরপর সেখানে সংঘবদ্ধভাবে তার উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ইতিমধ্যেই পুলিশ চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের আদালতে তোলা হলে ছয় দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত দুর্গাপুর থানা এলাকায়। বুধবার রাতে ওই এলাকায় একটি মেলা চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, সেখানেই পরিবারের অগোচরে একসময় একা হয়ে পড়ে ওই নাবালিকা। সেই সুযোগ নিয়েই চার যুবক তাকে জোর করে মেলার পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। সেখানেই নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয় সে।

    ঘটনার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসে নাবালিকা। পরিবারের সদস্যরা তার কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পারেন। এরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত দুর্গাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। একই সঙ্গে নাবালিকাকে উদ্ধার করে দ্রুত দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের একটি দল তার শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছে।

    আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (পূর্ব) রাসপ্রীত সিং জানান, নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, নাবালিকাকে চার যুবক মিলে যৌন নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ এসেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    পুলিশি নথি অনুযায়ী, এই ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় ৩৬৬/২৬ নম্বর মামলা রুজু হয়েছে, অভিযোগ দায়েরের তারিখ ১ জুলাই ২০২৬। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় এবং পকসো আইনের ৪ ও ৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নাবালিকা হওয়ায় পকসো আইনের আওতায় মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃত চারজনই নাবালিকার প্রতিবেশী। ফলে ঘটনাটি আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, পরিচিত মুখদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এলাকাবাসীকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। অনেকে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার চার অভিযুক্তকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের ছয় দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। তদন্তকারীদের মতে, এই সময়ে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পূর্ণ চিত্র সামনে আনার চেষ্টা করা হবে। ঘটনার সময় আর কেউ উপস্থিত ছিল কি না, কিংবা পরিকল্পিতভাবে এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্ন উঠেছে নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে। জনসমাগমপূর্ণ এলাকাতেও কীভাবে এমন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশাসনের ভূমিকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সামাজিক সচেতনতা—সবকিছু নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আপাতত নির্যাতিতার শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সকলেই।
  • Link to this news (আজকাল)