দীর্ঘ দেড় দশক পর অবশেষে তারাপীঠ মন্দির পরিচালন কমিটিতে বড়সড় রদবদল ঘটল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর, তারাপীঠের এই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন কমিটির হাতে। আর দায়িত্ব পেয়েই ভক্তদের সুবিধার্থে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ ‘বৈপ্লবিক’ ও অভিনব সিদ্ধান্ত নিল মন্দির কর্তৃপক্ষ।
এবার থেকে গর্ভগৃহে ঢুকে ভক্তরা আর মা তারা-কে স্পর্শ করতে পারবেন না! পাশাপাশি দূর থেকে দেবীমূর্তি স্পষ্ট দেখার জন্য গর্ভগৃহের মেঝে কেটে নিচু করার মতো ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে নতুন কমিটি।
নতুন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সম্পাদক হয়েছেন পুলক চট্টোপাধ্যায়। গত বুধবার কমিটির প্রথম বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যম ‘আজকাল ডট ইন’ -কে সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় বললেন, “বহু বছর ধরে সেবায়েতরা মিলে পুরোনো কমিটির কাছে এই অনুরোধগুলো করেছিলাম। কিন্তু তৃণমূলের নির্বাচিত সেই কমিটি আমাদের কথায় কর্ণপাত করেনি। এবার আমরা খড়গপুর আইআইটি অথবা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হেরিটেজ আর্কিটেকচার ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সাথে বৈঠকে বসব। মন্দিরের প্রাচীন কাঠামোর কোনো ক্ষতি না করে যদি গর্ভগৃহের মেঝে ৭-৮ ইঞ্চি বা ১ ফুট নিচু করা যায়, তবেই তা করা হবে।”
তিনি আরও জানান, সব ঠিক থাকলে আগামী কৌশিকী অমাবস্যার পরেই এই সংস্কারের কাজ শুরু হবে। সেই সময় মায়ের মূল মূর্তিকে সাময়িকভাবে পাশের শিবমন্দিরে স্থানান্তরিত করা হবে। গর্ভগৃহ নিচু হলে দেবীমূর্তির অধিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই উঁচুতে চলে যাবে। ফলে দূর থেকেই অসুস্থ, প্রবীণ মানুষ ও শিশুরা মায়ের দর্শন পেয়ে যাবেন, কিন্তু উচ্চতার কারণে কেউ আর মা-কে স্পর্শ করতে পারবেন না।
এতদিন তারাপীঠে দেবী দর্শনের জন্য দুটি লাইন ছিল— ‘সাধারণ’ ও ‘বিশেষ’ (যা টিকিটের মাধ্যমে হতো)। এবার যুক্ত হচ্ছে আরও একটি বিশেষ লাইন, যার নাম ‘প্রটোকল লাইন’। ভিড় নিয়ন্ত্রণে লাইনের নিয়মেও আনা হচ্ছে বড় বদল:
নতুন চেকপোস্ট ও রোটেশন ব্যবস্থা: গর্ভগৃহে ঢোকার মুখে প্রতিটি লাইনে থাকবে আলাদা চেকপোস্ট। সাধারণ লাইন আধঘণ্টা সচল রেখে তারপর সেটি বন্ধ করে বিশেষ লাইন ২০ মিনিটের জন্য চালু করা হবে। অর্থাৎ, একটি লাইন চালু থাকলে অন্যটি বন্ধ থাকবে, যাতে ধাক্কাধাক্কি এড়িয়ে পুণ্যার্থীরা শান্তিতে দর্শন করতে পারেন।
প্রটোকল লাইনের নিয়ম: যদি কোনত্ত মন্ত্রী বা বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টনীতে থাকা ভিআইপি ব্যক্তিত্ব মন্দিরে আসেন, তবে তিনি এই প্রটোকল লাইন ব্যবহার করবেন। সেই ভিআইপি দর্শনের কয়েক মুহূর্তের জন্য বাকি দুটি লাইন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।
১৫ বছর পর তারাপীঠের এই প্রশাসনিক রদবদল এবং স্পর্শ করার অধিকার প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই ভক্তমহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।