আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে পালাবাদল। তারপর থেকেই তৃণমূলের রক্তক্ষরণ একপ্রকার। তৃণমূলের বহু প্রথম সারির নেতা, মমতা জমানার মন্ত্রী মমতারই হাত ছেড়েছেন। শুধু হাত ছেড়েছেন নয়, অনেকেই একেবারে মমতা বিরোধী শিবির গিয়েছেন। তৃণমূলে সাংসদের ছাড়াও এখন স্পষ্ট দুই গোষ্ঠী। একদিকে কালীঘাট তৃণমূল, অন্যদিকে শিবির ঋতব্রত। তৃণমূলের কুণাল ঘোষ, স্পষ্ট করেছেন, তিনি যে কোনও পরিস্থিতিতে থাকবেন মমতা ব্যানার্জির সঙ্গেই। কুণাল ঘোষ মমতার পাশে দাঁড়িয়ে, একাধিকবার বিরোধী শিবিরকে আক্রমণ করেছেন। কখনও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে, কখনও সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এবারে ফের বোমা ফাটালেন কুণাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিশানায় কে? কুণাল ঘোষ লিখেছেন-'মানুষ কতটা নোংরা হতে পারে।মমতাদি ক্ষমতায় থাকলে মন্ত্রী। নাবালক পুত্রও হাফমন্ত্রীর লাটসাহেবিতে।সরকার চলে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের পাশে না থেকে অবসর ঘোষণা।তারপর আবার রাতারাতি মমতাদির সঙ্গে বেইমানি করা গ্যাং-এ 'আসল' তৃণমূল দাবি করে।এরা মানুষ?????কেন এই আচরণ, সেটা সবাই বোঝে।কোনো কিছু আড়াল করা যাবে না।ন্যাকামির কথাবার্তার আড়ালে নিকৃষ্টশ্রেণীর সুবিধেবাদী শয়তানি করলেও এক মাঘে শীত যাবে না।'
এই পোস্টে কুণাল ঘোষ কারও নাম উল্লেখ না করলেও, ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কুণালের নিশানায় প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস। যদিও এই প্রসঙ্গে নিশ্চিত তথ্য, উল্লেখ করেনি কোনও পক্ষই।
তৃণমূল, এক সময়ের তৃণমূল, কালীঘাট শিবির, ঋতব্রত শিবির, এবং সবের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। অব্যাহত রক্তক্ষরণ। জোড়া ফুল কার? তা নিয়ে বিতর্ক জোড়া শিবিরে। এক পক্ষ বলছে তারাই আসল তৃণমূল। অন্যদিকে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা বলছেন, যাঁরা তাঁর সঙ্গ ছেড়েছেন তাঁরা গদ্দার। এক পক্ষ বলছেন, প্রতীক থাক না থাক, মমতা ব্যানার্জির মুখই সব। এক পক্ষ বলছে, প্রতীক চাওয়ার ব্যাপারই নেই, কারণ তারাই 'আসল তৃণমূল'। নিজেদের দাবির পাশে সিলমোহর দিতে, কমিশনেও গিয়েছে দু'পক্ষ। এবার বড় নির্দেশ। কমিশন ৬ জুলাই বিকেল পাঁচটার মধ্যেই দু'পক্ষকে নিজেদের নথি-বক্তব্য কমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।