: রেললাইন পার হচ্ছে হাতির দল। সামনে মা-হাতি, পাশে আর এক প্রাপ্তবয়স্ক গজরাজ, আর মাঝখানে ফুটফুটে ছোট্ট শাবক। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে রেললাইনের মাঝখানেই। ধারালো পাথর আর লাইনের ফাঁক পেরোতে গিয়ে বারবার থমকে যায় ছোট্টটি। ঠিক সেই সময় সামনে এসে দাঁড়ায় ট্রেন।
কিন্তু ছানাকে ফেলে এক পা-ও সরেনি মা। ট্রেনের সামনেই দাঁড়িয়ে থেকে আগলে রাখে নিজের শাবককে। যতক্ষণ না ছোট্ট হাতিটি ধীরে ধীরে রেললাইন পেরিয়ে নিরাপদে জঙ্গলের পথে ঢুকে পড়ছে, ততক্ষণ সেখানেই প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকে মা-হাতি। শাবকটি নিরাপদে পার হতেই সঙ্গী গজরাজকে নিয়ে জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে যায় তারা।
এই হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্য ধরা পড়েছে আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের রেলের ক্যামেরায়। গুলমা-শিবক সেকশনের ২০/৭ কিলোমিটার এলাকার কাছে, আপ লাইট ইঞ্জিন নিয়ে যাওয়ার সময় রেলকর্মীরা দেখতে পান— দুটি পূর্ণবয়স্ক হাতি ও একটি শাবক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিনের গতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আর তাতেই এড়ানো যায় বড়সড় বিপদ।
প্রসঙ্গত মাঝেমধ্যেই রেল লাইটে উঠে আসে হাতির দল, কখনও হরিণের পাল, সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে রেল দফতর। এতেই বোঝা যায় যে কতটা তৎপর রেল দফতর যে মাঝেমধ্যেই গজরাজ লাইনের মধ্যে উঠে আসলেও তারা তৎক্ষণাৎ এমার্জেন্সি ব্রেক করে দাঁড় করিয়ে দেয় ফ্রেন্ডক এতেই ডুয়ার্সের বহু বন্যপ্রাণের প্রাণ বেঁচেছে। এ বিষয় পরিবেশপ্রেমী তারা বল প্রশংসা করেন রেল দফতরকে তাদের এই উদ্যোগে ডুয়ার্সের অনেক বন্যপ্রাণ বেঁচেছে, ট্রেন এবং বন্যপ্রাণের সংঘর্ষ অনেকটা এড়ানো গিয়েছে।