অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে মহিলাদের বিক্ষোভ, ফর্ম জমা দেওয়া সত্ত্বেও বঞ্চনার অভিযোগে ক্ষোভ
বর্তমান | ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদদাতা, বোলপুর ও রামপুরহাট: কেন সরকারি টাকা ঢোকেনি সেই প্রশ্ন তুলে রামপুরহাটে বিক্ষোভ দেখানো হয়। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, তিন মাসের মধ্যে আবেদনপত্র আপলোড করার কথা। ১তারিখের মধ্যেই টাকা দেওয়ার চাপ থাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে ভেরিফিকেশন হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
বুধবার অন্নপূর্ণা যোজনায় রাজ্যে এক কোটির বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে বলে সরকারের দাবি। তা সত্ত্বেও বহু মহিলা টাকা পাননি। তার প্রতিবাদে এদিন দুই পুরসভায় বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের ঘোষণার পরই তাঁরা পুরসভা থেকে ফর্ম সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় নথি-সহ আবেদন জমা দেন। কিন্তু বুধবার বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছালেও বোলপুর পুরসভায় অফলাইনে আবেদন জমা দেওয়া অধিকাংশ মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। এর প্রতিবাদেই এদিন পুরসভার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। বিক্ষোভকারী পূর্ণিমা চট্টোপাধ্যায় বলেন, এক মাস আগে ফর্ম জমা দিয়েছি। এখনও টাকা পাইনি। অথচ পরে আবেদন করা অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গিয়েছে। অন্তরা দাস বলেন, বারবার পুরসভায় গিয়েও কোনো সদুত্তর মিলছে না। যোগ্যদের দ্রুত টাকা দেওয়া হোক। বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, পুরসভায় তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড থাকায় সাধারণ মানুষের সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না। এদিন বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভের পর বোলপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের আশ্বাসে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করেন মহিলারা।
এদিন রামপুরহাট পুরসভায় বিক্ষোভে শামিল হন আবেদনকারীদের একাংশ। বিক্ষোভের জেরে বেশ কিছুক্ষণ কাজ বন্ধ করে দেন পুরসভার কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। পরে পুলিশ পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি পুরসভার কর্মীদের সঙ্গেও কথা বললে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ফের স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হয়। পুরসভার কর্মীদের দাবি, বর্তমানে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র যাচাইয়ের কাজ চলছে। কারা আর্থিক সহায়তা পাবেন বা কার নাম বাদ যাবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাঁদের নয়। অথচ আবেদনকারীদের একাংশ পুরসভার কর্মীদের হুমকি দিয়ে অ্যাকাউন্টে টাকা পাননি কেন জানতে চাইছেন। কয়েকজন আবেদনকারী তাঁদের মারতেও উদ্যত হন। রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহার কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দেন পুরসভার কর্মীরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ৫ ও ৬ জুন আবেদনপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও বহু আবেদন এখনও পর্যন্ত যাচাই করা হয়নি। অথচ ১২জুনের পর যাঁরা আবেদন করেছেন তাঁদের অনেকের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছে গিয়েছে। তাঁদের দাবি, আবেদন যাচাইয়ে পুরসভা পক্ষপাত করছে। বিজেপির বীরভূম জেলা মুখপাত্র সুমিত মণ্ডল বলেন, পুরসভায় আমাদের কোনো প্রতিনিধি নেই। তাই অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্তরে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তথ্য আপলোডে কিছুটা সময় লাগছে। যোগ্য সকলেই ধৈর্য ধরুন, টাকা পেয়ে যাবেন। এব্যাপারে বোলপুর ও রামপুরহাট পুরসভার তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।