• প্ল্যান অমান্য করে নির্মাণ! রবীন্দ্র, দিগন্তের বহুতলে পুলিশ, মিল নেই দাগ নম্বরেরও, সরগরম কাটোয়া
    বর্তমান | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: প্ল্যান বহির্ভূতভাবে বহুতল গড়ছিলেন কাটোয়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর আপ্ত সহায়ক দিগন্ত পাল। প্রমোটারকে দিয়ে তাদের জায়গায় বহুতল তৈরি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার শহরের কারবালাতলা এলাকায় সেই বহুতলে হানা দিল পুলিশ ও পুরসভা। জি প্লাস ফোরের অনুমোদন থাকলেও সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে জি প্লাস ফাইভ। অভিযোগ, পুরসভায় প্রভাব খাটিয়ে ওই বহুতল গড়ে তোলা হচ্ছিল। জায়গার দাগ নম্বরেও সমস্যা রয়েছে বলে অভিযোগ। 

    কাটোয়া পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার চঞ্চলকুমার মণ্ডল বলেন, আমরা তদন্ত করতে গিয়ে দেখলাম, প্ল্যান বহির্ভুতভাবেই ওই বহুতল গড়া হয়েছে। এরপর আমরা পুরসভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। 

    কাটোয়া শহরের কারবালাতলা এলাকায় কয়েক বছর ধরে একটি বহুতল গড়ে তোলা হচ্ছিল। ওই জায়গার মালিক হিসাবে দলিলে নাম রয়েছে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, তাঁর আপ্ত সহায়ক দিগন্ত পাল, কালীচরণ চট্টরাজ, গৌতম ঘোষ ওরফে বোলন, এবং রবীন্দ্রনাথবাবুর মেয়ে ডালিয়া গোস্বামীর। তাঁরা ওই জায়গায় বহরমপুরের একটি প্রমোটিং সংস্থাকে দিয়ে বহুতল তুলেছেন। ১২ শতক জায়গায় প্ল্যান বহির্ভুত ভাবে বহুতল নির্মিত হয়েছে। ধৃত দিগন্ত পালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই বহুতল থেকে  একটি পাইপগানও উদ্ধার হয়েছিল। 

    পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথবাবু ওই জায়গা কিনেছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা প্রতিমা ঘোষ ও তাঁর স্বামী জয়ন্তকুমার ঘোষের কাছ থেকে। এদিন পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সহ আমিন গিয়ে বহুতলের মাপজোক করেন। 

    প্রসঙ্গত, গত ৩০মে দিগন্ত পাল ও বিশ্বনাথ সাহাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কাটোয়া-২ ব্লকের কড়ুই অঞ্চলের নতুনগ্রামের বাসিন্দা ওমর আলি শেখ কাটোয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ ব্যাংকের  কৈথন শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাঁর মতো গ্রামের আরও অনেকের সেখানে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। অথচ তাঁরা তা  জানতেনই না। সেখানে ২০১৬ সালের পর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১০০ দিনের কাজের টাকা ঢোকানো হয়েছে। আবার তোলা হয়েছে। অভিযোগ, তৃণমূলের কয়েকজন নেতা ওই টাকা আত্মসাত করেছে। সেখানে তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, তাঁর আপ্ত সহায়ক দিগন্ত পাল, বিশ্বনাথ সাহা, কড়ুই অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতি সুকেশ চট্টোপাধ্যায়ের নামে অভিযোগ আনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঠিকাদার থেকে ব্যবসায়ী, সবার কাছ থেকে তোলা আদায় করতেন প্রাক্তন বিধায়কের আপ্ত সহায়ক। প্রয়োজনে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে দিনের পর দিন তোলাবাজি চালিয়েছেন দিগন্ত। সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে ঠিকাদারদের থেকেও টাকা নিতেন দিগন্ত। এখন প্রশ্ন উঠছে, জি প্লাস ফোর অনুমোদন থাকলেও সেখানে জি প্লাস ফাইভ কার মদতে গড়ে উঠল। এ নিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথবাবু কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
  • Link to this news (বর্তমান)