মাতলা নদীর চরে শওকতের ছেলের অবৈধ কাফে গুঁড়িয়ে দিল বুলডোজার
বর্তমান | ০৩ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সময়সীমা শেষ। ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লার অবৈধ কাফে গুঁড়িয়ে গেল বুলডোজারের ধাক্কায়। ‘অরণ্যের কূলে’ নামের ওই কাফেতে বৃহস্পতিবার বুলডোজার চালায় প্রশাসন। এদিন সকালে ছেলের কাফে ধূলিসাৎ হল, আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিকালেই জীবনতলা বাজার এলাকায় পুলিশি ঘেরাটোপে ঘোরানো হল বাবা তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লাকে। একটি ধর্ষণ মামলার তদন্তে তাঁকে হেপাজতে নিয়েছে জীবনতলা থানা। শওকতকে যখন জীবনতলা বাজার দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন বিভিন্ন জায়গায় বেজেছে ‘মাছ চোর’ গান। এই দাপুটে নেতার হাল দেখতে রাস্তার ধারে ভিড় ছিল ভালোই। বাবার এই পরিণতি দেখে মেয়ে শাবানা মোল্লা বলেন, এভাবে রাস্তা দিয়ে হাঁটানোর কি কোনো আইন আছে? যা হচ্ছে ঠিক হচ্ছে না।
ক্যানিং পূর্বের মৌখালি সেতু সংলগ্ন মাতলা নদীর চর দখল করে কাফে তৈরির অভিযোগ রয়েছে শওকতের ছেলে ইমরানের বিরুদ্ধে। যে জায়গায় সুদৃশ্য কাফে গড়ে তোলা হয়েছিল, সেটি সেচদপ্তরের জমি। ইমরানকে ২৯ জুনের মধ্যে ওই নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু ওই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সেটি ভাঙেনি ইমরান। তাই এবার প্রশাসনের তরফে অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হয়। তবে কাফের ভিতরে থাকা কংক্রিটের একটি নির্মাণ এদিন জেসিবি দিয়েও ভাঙা যায়নি। আজ, শুক্রবার নিউটাউন থেকে একটি বিশেষ মেশিন এনে সেটা ভাঙা হবে বলে জানা গিয়েছে। এই ভাঙচুরের জন্য যা খরচ হবে, তা শওকতের ছেলেকেই দিতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, মাতলা নদীর চরে কয়েক বিঘা জমি দখল করে এই কাফে তৈরি করা হয়েছিল। শওকত মোল্লা গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। প্রশাসনের তরফে এলাকা পরিদর্শনের পর কাফের মালিক ইমরানকে জমি সংক্রান্ত যাবতীয় নথি সহ ক্যানিংয়ে মহকুমা শাসকের অফিসে তলব করা হয়। ওই কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, পুরো নির্মাণই অবৈধ। সেচদপ্তরের জমি দখল করে এটি তৈরি করা হয়েছে। এদিন সকালে জেসিবি নিয়ে কাফের সামনে হাজির হয় পুলিশ। ছিলেন ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। শেষমেশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ভিতরে থাকা কটেজ ও অন্যান্য অস্থায়ী নির্মাণ। কয়েক ঘণ্টায় মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ‘অরণ্যের কূলে’। এদিকে, মৌখালি সেতুর ধারে গজিয়ে ওঠা অজস্র ছোটো ও মাঝারি দোকানপাটের ভবিষ্যৎ কী, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এনিয়ে এক আধিকারিক বলেন, সবাইকে চিঠি ও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কারও কারও নথি পরীক্ষার কাজ চলছে। শীঘ্রই পদক্ষেপ করা হবে। নিজস্ব চিত্র