নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আশঙ্কা থাকলই। তবে আপাতত স্বস্তি পেলেন শিয়ালদহ বিদ্যাপতি সেতুর নীতে থাকা হকাররা। ফ্লাই ওভারের নীচে থাকা হকার উচ্ছেদে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আপাতত ৯ জুলাই পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ।
মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের দাবি, যে নোটিস জারি করা হয়েছে, সেটা কলকাতা পুরনিগমের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। যদিও এদিন কলকাতা পুরনিগমের পক্ষ থেকে অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে বলেন, ‘পুর প্রশাসক সম্ভবত এই নোটিস জারি করেছেন। এই ধরনের মামলা আসলে বেআইনি দখলদার দখলে মদত দেওয়ার জন্যই করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি আদালতে মৌখিকভাবে আশ্বাস দেন, আপাতত আদালতের নির্দেশ না-পাওয়া পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ করা হবে না।’ গত ২৯ তারিখে এই নোটিস পড়ার পরে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় হকারদের মধ্যে। হকাররা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘উচ্ছেদ বিরোধী হকার ও নাগরিক কমিটি (শিয়ালদহ)’ তৈরি করেছেন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এলাকার নাগরিক, শিক্ষক ও অভয়া আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকদের একাংশ। কমিটির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার পুরসভার ৫ নম্বর বরো এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। কমিটির বক্তব্য, উন্নয়নের স্বার্থে আইন মেনে সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত। তবে বুলডোজার চালিয়ে দোকান ভাঙার চেষ্টা হলে প্রতিরোধ হবে।
একই অবস্থা যাদবপুরে। আশঙ্কার প্রহর গুনছেন হকাররা। বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল, দোকানের সামনে সাঁটানো রয়েছে নোটিস। সেখানে বারবার চোখ পড়ে যাচ্ছে রুস্তমের। পরক্ষণেই সেলাই মেশিনে মন দিচ্ছেন তিনি। যাদবপুরে সুকান্ত সেতুর নীচে হকার্স মার্কেটে হকারদের সাত দিনের মধ্যে উঠে যাওয়ার নোটিস দিয়েছে কলকাতা কর্পোরেশন। অন্তত বিভিন্ন জায়গায় ছাপার অক্ষরে দেওয়া নোটিসে তেমনটাই লেখা রয়েছে। এই নোটিস ঘিরে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে দোকানিদের মধ্যে। রুস্তম আলির দোকান প্রায় বছর তিরিশের। দোকান ভরতি মালপত্র। বলছিলেন, ‘এই দোকান তো আমার বাবা করেছিলেন। তারপর থেকে আমিও কাজ করছি। হঠাত্ করে এসে বলছে, দোকান সাত দিনের মধ্যে উঠিয়ে দিতে হবে।’ কে অবৈধ আর কে বৈধ? সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর আশঙ্কা, ‘বলেছে যখন হয়ত তুলেই দেবে। আমরা কী করব, কোথায় যাব জানি না। এখন তো আর কোথাও চাকরি পাব না। চাকরি পেলেও হয়ত ৫-৬ হাজার টাকার পাব। সেই দিয়ে সংসার চলবে?’ বাজারের ভিতরেও একটি নোটিস টাঙানো হয়েছে। সেখানে কিন্তু স্ট্যাম্প মেরে সই করা রয়েছে। কীভাবে এর মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে দোকানিরা জটলা পাকিয়ে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছেন।