• পুজোর আগেই স্বাস্থ্যসাথী থেকে আয়ুষ্মানে: শুভেন্দু
    বর্তমান | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষাই টার্গেট রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকারের। আর তাই ক্ষমতায় আসামাত্র নেওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করার সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেজন্য পূর্বতন রাজ্য সরকারের ‘স্বাস্থ্যসাথী’তে ইতি টানার প্রয়োজন পড়েছে। জানা যাচ্ছে, ‘স্বাস্থ্যসাথী’র উপভোক্তাদের হাতেই পৌঁছে দেওয়া হবে আয়ুষ্মান কার্ড। আর সেটা করা হবে পুজোর আগেই। অর্থাৎ, পর্যায়ক্রমে রাজ্যের মানুষ এই কেন্দ্রীয় চিকিৎসা বিমা প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করবেন। বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘরের প্রশাসনিক বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি দুর্গাপুজোর আগে সকলের জন্য স্বাস্থ্যসাথীর বদলে আয়ুষ্মানের সুবিধা চালু করার টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।

    জানা গিয়েছে, রাজ্যের প্রায় সাত কোটি মানুষ ‘আয়ুষ্মান ভারতে’র সুবিধা পেতে চলেছেন। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়াদের এব্যাপারে অগ্রাধিকার দেওয়ার ভাবনা রয়েছে রাজ্যের। তবে সত্তরোর্ধ্ব ৪২ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক প্রকল্পটির সুবিধা পাবেন। সেক্ষেত্রে আর্থিক পরিস্থিতি বাধা হবে না। জনকল্যাণ শিবিরে এই প্রকল্পের আবেদনপত্র জমা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আশাকর্মীদের হাত ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণ এবং যাচাইয়ের কাজ চলছে পুরোদমে। মুখ্যমন্ত্রী পুজো পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিলেও, আগস্টের মধ্যে এই কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে স্বাস্থ্যদপ্তর।

    সূত্রের খবর, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে ইতিমধ্যেই যুক্ত হয়েছে রাজ্যের ১৪০০টি বেসরকারি হাসপাতাল। এবার সরকারি হাসপাতালগুলিকে যুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। দেশজুড়ে ৪০ হাজার হাসপাতালে আয়ুষ্মানের পরিষেবা মিলবে। সেইসঙ্গে ১৪০০ ধরনের সার্জারির প্যাকেজের সুবিধাও। সূত্রের খবর, ভারত সেবাশ্রমের মতো সংস্থার হাসপাতালেও ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।

    এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে আধিকারিকদের জন্য পাঁচ দফা গাইডলাইন বেঁধে দিয়েছেন শুভেন্দুবাবু। একটি এলাকায় কোন আধিকারিক কোন দায়িত্বে আছেন, তা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের নাম এবং নম্বর প্রচার করতে হবে। তৈরি করতে হবে ‘প্রোজেক্ট ইমপ্লিমেন্ট ক্যালেন্ডার’। জোর দিতে হবে স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পরিচালনার উপর। সরকারি তহবিল খরচের ক্ষেত্রে আরও যত্নবান হতে হবে এবং সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে অবগত করতে নিয়মিত এলাকার মানুষের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে। একইসঙ্গে স্বল্পমেয়াদি প্রকল্প এবং স্বচ্ছ উপভোক্তা তালিকা তৈরিতেও জোর দেওয়া হয়েছে।

    ক্ষমতায় এসেই দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি চালু করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। শুরু হয়েছে একাধিক গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের কাজও। বৃহস্পতিবার তিরুপতি থেকে ১২৫ দিনের কাজ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। রাজ্যের ক্ষেত্রে হাওড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হয় সেই ‘ভিবি জি রাম জি’র। এদিনের বৈঠকে এই প্রকল্পের কাজও গুরুত্ব সহকারে রূপায়ণের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাজেটে ঘোষিত সমস্ত প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষের টার্গেটও বেঁধে দিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, অনেক বেসরকারি সংস্থা এরাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে চায়। সূত্রের খবর, নিউটাউনে এক হাজার বেডের ‘আদানি হেলথ সিটি’ গড়ার জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)