• ফর্ম পূরণেও কেন টাকা মিলছে না, ক্ষোভ অন্নপূর্ণায়
    বর্তমান | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে অন্নপূর্ণা যোজনা। মাসে দেড় হাজার নয়, ৩ হাজার টাকা। গত ১ জুলাই রাজ্যের ১ কোটি ৩০ লক্ষ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সেই অর্থ পাঠাতে শুরু করেছে নবান্ন। তা নিয়ে খুশির ঢেউ উঠেছিল রাজ্যের মহিলামহলে। কিন্তু, মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই উধাও সেই আনন্দ। কারণ, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম জমা দিয়েও টাকা পাননি বহু ‘অন্নপূর্ণা’। কেউ অনলাইন-অফলাইন উভয় মাধ্যমে ফর্ম জমা করেছেন। কারও বাড়িতে পুরসভার প্রতিনিধি এসে ‘সার্ভে’ও করে গিয়েছেন। তবু অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা ঢোকার ‘মেসেজ’ আসেনি ব্যাংক থেকে। বৃহস্পতিবার এই ইস্যুতে বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর-জয়নগর থেকে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে। কয়েকটি জায়গায় পুরসভার চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যানদের ঘেরাও করে রাখারও অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন একটাই— কেন তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকল না? জবাবে কোথাও সামনে এল অচল সার্ভার, কোথাও আবার পর্যাপ্ত কর্মী না থাকার তত্ত্ব। মূলত এই কারণেই যাচাই পর্ব সম্পূর্ণ না হওয়ায় টাকা দিতে দেরি হচ্ছে বলে সাফাই দেওয়া হয়েছে। কর্মী সংকটের জেরে যাচাই পর্ব বিলম্বিত হওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন রাজ্যের শিশু ও নারী উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী মালতী রাভারায়। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, গতকাল থেকে যে টাকা ছাড়া হয়েছে, তা ঢুকতে তিন-চারদিন সময় লাগবে। ধীরে ধীরে সকল যোগ্য উপভোক্তা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন।

    অন্নপূর্ণা যোজনার দীর্ঘ ১২ পাতার আবেদনপত্র নিয়ে গোড়া থেকেই বিতর্ক হয়েছিল। পরবর্তীতে অনলাইন আবেদন ব্যবস্থাও চালু হয়। গত ৩ জুন প্রথম দফায় ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়। দ্বিতীয় দফায় টাকা ছাড়া হয় গত বুধবার। কিন্তু পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বোলপুর, রামপুরহাট, শান্তিপুর, বারুইপুর, হলদিবাড়ি সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় অবশ্য বিক্ষোভকারীরা কোনো মাসেরই টাকা পাননি। জয়নগর মজিলপুর পুরসভায় বিক্ষোভকারী শর্মিলা ঘোষের অভিযোগ, বাড়িতে বিএলও এসে সব দেখে গেলেও টাকা মেলেনি। অথচ, এলাকায় যাঁদের বাড়িতে বিএলও যায়নি, তাঁরা টাকা পেয়ে গেলেন!
  • Link to this news (বর্তমান)