খিদিরপুর: হেলমেটহীন চালককে রুখতে লাথি, দুই সার্জেন্টকে ঘিরে বিক্ষোভ
বর্তমান | ০৩ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘হেলমেট মাস্ট’- সরকারে এসেই বেপরোয়া, আইনভঙ্গকারী বাইকচালকদের শায়েস্ত করতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঘোষণার পরই সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ। বিশেষ করে যে এলাকাগুলিতে দ্বিচক্র যানের বেপরোয়াভাব ছিল ব্যাপক, সেই এলাকাগুলিতে বেশি করে সক্রিয়তা বাড়ে। কিন্তু, সেই অভিযান কি এবার অতিসক্রিয়তায় পৌঁছে গেল? তেমনই অভিযোগ তুলছেন খিদিরপুরের বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার কার্ল মার্কস সরণির উপর ফ্যান্সি মার্কেটের কাছে এক হেলমেটহীন স্কুটার চালককে রুখতে লাথি মেরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল কর্তব্যরত এক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। তাঁকে সাহায্য করতে এসে আটকে যান আরও এক সার্জেন্ট। স্থানীয়দের ক্ষোভের মাঝে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হয় কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের দুই অফিসারকে। এদিন দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, এক যুবক হেলমেট না পরেই খিদিরপুর মোড় থেকে ফ্যান্সি মার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করেন কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট। কিন্তু, দ্বিচক্র যানটি গতিতে ছিল। একইসঙ্গে, বৃষ্টির জেরে রাস্তা ভিজে ছিল। তাই আচমকা ব্রেক কষলে স্কুটারের ছোটো চাকা পিছলে যেতে পারত। ওই পুলিশ অফিসার স্কুটার থামানোর জন্য স্কুটারে লাথি মারেন বলে অভিযোগ। তার জেরে রাস্তায় পড়ে যান চালক। আংশিক চোট লাগে দাবি ওই স্কুটারচালকের। স্থানীয়রা দেখার পর বিক্ষোভের আঁচ গিয়ে পড়ে সংশ্লিষ্ট সার্জেন্টের উপর। তাঁরা প্রশ্ন করতে থাকেন, ‘আইনভঙ্গ করলে আপনার কাজ সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা বা জরিমানা করা। আপনি গায়ে হাত দেবেন কেন? একজন বাইকচালককে কোন ধারায় আপনি লাথি মারলেন?’ বিক্ষোভের মুখে ঘাবড়ে যান ওই সার্জেন্ট। আরও একজন সার্জেন্টকে সাহায্যের জন্য ডাকেন তিনি। তাঁকে ঘিরেও বিক্ষোভ ছড়ায়। ঘটনার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’।