• আলজিরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় সুইৎজ়ারল্যান্ড, ফিরল ৮৮ বছর আগের ইতিহাস
    এই সময় | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • সুইৎজ়ারল্যান্ড (Switzerland) বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল কিছুটা হতাশা নিয়ে। কাতারের (Qatar) বিরুদ্ধে জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে পয়েন্ট ভাগ করে নিতে হয়েছিল তাদের। তবে সেই ম্যাচের পর যেন পুরোপুরি বদলে যায় দলটি। টানা তিনটি জয়, আটটি গোল এবং মাত্র দু’টি গোল হজম করে তারা পৌঁছে গেল শেষ ষোলোয়। আলজিরিয়াকে (Algeria) ২-০ গোলে হারিয়ে শুধু পরের রাউন্ডেই ওঠেনি সুইসরা, ১৯৩৮ সালের পর প্রথম বার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদও পেল। পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো টানা তিনটি ম্যাচ জিতল তারা।

    মানজ়াম্বির ঝলকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ

    ম্যাচের আগেই স্টেডিয়ামে দর্শকদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হয়, ‘এই ছেলেটির দিকে নজর রাখুন।’ আর এই ছেলেটি হলেন ২০ বছর বয়সি জোহান মানজ়াম্বি (Johan Manzambi)। এই বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন তিনি। ফিফার সেরা আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়দের তালিকাতেও কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe), আর্লিং হাল্যান্ড (Erling Haaland) এবং হ্যারি কেনের (Harry Kane) মতো তারকাদের পাশে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু আলজিরিয়া সেই সতর্কবার্তা গুরুত্ব দেয়নি। আর সেই সুযোগই দারুণ ভাবে কাজে লাগান মানজ়াম্বি।

    ম্যাচের ১০ মিনিটে রুবেন ভার্গাসের (Ruben Vargas) পাস পেয়ে মাঝমাঠ থেকে দারুণ এক দৌড় শুরু করেন তিনি। পথে আলজিরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দিকে (Aissa Mandi) বোকা বানিয়ে বাইলাইনের কাছ থেকে নিখুঁত একটি ক্রস তোলেন। সেই বল জালে জড়াতে কোনও ভুল করেননি ব্রিল এম্বোলো (Breel Embolo)। স্কোরশিটে গোলদাতার নাম এম্বোলোর হলেও, গোলটির আসল কারিগর ছিলেন মানজ়াম্বি। তাঁর গতি, আত্মবিশ্বাস এবং সৃজনশীলতা শুরু থেকেই আলজিরিয়ার রক্ষণকে চাপে ফেলে দেয়।

    বিরতির পরেই বাড়ল ব্যবধান

    প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আরও বড় ধাক্কা খায় আলজিরিয়া। বিরতির মাত্র ৪৮ সেকেন্ড পর নিজেদের রক্ষণ থেকে ক্লিয়ার করা বলের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় গোল করেন দান এনদোয়ে (Dan Ndoye)। আলজিরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান (Luca Zidane) বল স্পর্শ করলেও তা ঠেকাতে পারেননি। দ্বিতীয় গোলের পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় সুইৎজ়ারল্যান্ডের হাতে। কোচ মুরাত ইয়াকিনকে (Murat Yakin) তখন বেশ নিশ্চিন্তই দেখাচ্ছিল, কারণ তাঁর দল শেষ ষোলোর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

    বাঁ প্রান্তে ভার্গাস এবং ডান দিকে এনদোয়ে পুরো ম্যাচ জুড়েই আলজিরিয়ার রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছিলেন। অন্যদিকে নিজের কাজ শেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে মাঠ ছাড়েন মানজ়াম্বি, কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচে নিজের ছাপ রেখে গিয়েছেন তিনি।

    ৮৮ বছরের অপেক্ষার অবসান

    আলজিরিয়া ম্যাচে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। শুরুতেই হৌসেম আওয়ার (Houssem Aouar) একটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন। পরে রিয়াদ মাহরেজ়ের (Riyad Mahrez) তৈরি করা কয়েকটি আক্রমণও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় দলটি। ফলে সুইৎজ়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলকে (Gregor Kobel) খুব বেশি পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। সুইস রক্ষণভাগও ছিল যথেষ্ট সংগঠিত এবং আত্মবিশ্বাসী। শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল সুইৎজ়ারল্যান্ড। দেনিস জাকারিয়ার (Denis Zakaria) বাড়ানো বল থেকে ফাঁকা গোল পেয়েও সুযোগ নষ্ট করেন ফাবিয়ান রিডার (Fabian Rieder)। তবে সেই ভুল শেষ পর্যন্ত কোনও প্রভাব ফেলেনি।

    শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় সুইসদের উদযাপন। ৮৮ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে তারা। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের সামনে থাকবে কলম্বিয়া (Colombia) অথবা ঘানা (Ghana)। বর্তমান ফর্ম এবং আত্মবিশ্বাস দেখে একটাই কথা বলা যায়— সুইৎজ়ারল্যান্ডকে আর খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
  • Link to this news (এই সময়)