• সাংবাদিকদের মধ্যমা প্রদর্শন? কেতন খুনে অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলের আচরণ নিয়ে বিতর্ক, পুলিশের নজরে ‘তৃতীয় ব্যক্তি’
    এই সময় | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • পুনের লোহাগড় দুর্গে গিয়ে হবু বরকে খাদে ঠেলে ফেলে খুনের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় ফের বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন মূল অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল। এ বার পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে 'মিডল ফিঙ্গার' দেখানোর অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে।

    ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশি নিরাপত্তায় একটি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের গাড়ির দিকে হাঁটার সময়ে সাংবাদিকদের ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে সিয়া অশালীন ভঙ্গিতে মধ্যমা আঙুল প্রদর্শন করেন। এর পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনও উত্তর না দিয়েই তিনি পুলিশের গাড়িতে উঠে পড়েন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সিয়াকে তাঁর পুনের মার্কেট ইয়ার্ড এলাকার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে তদন্তকারীরা ঘটনার দিন তাঁর পরা পোশাক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস উদ্ধার করেন। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়েই উপস্থিত সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে ওই অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন সিয়া। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই তাঁর এই আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

    ভিডিয়োটি সামনে আসার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বহু নেটিজেনের দাবি, এত গুরুতর একটি হত্যা মামলার অভিযুক্ত হয়েও সিয়ার আচরণে অনুশোচনার কোনও ছাপ নেই। বরং তাঁর এই অঙ্গভঙ্গি ঔদ্ধত্য এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রতি অসম্মান বলেই মনে করছেন অনেকেই। যদিও এই বিষয়ে সিয়া বা তাঁর আইনজীবীর তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।

    প্রসঙ্গত, পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর ঘটনায় সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনেছে পুলিশ। অভিযোগ, হবু বর কেতনকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিত ভাবে পাহাড়ের খাদে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছেন সিয়া ও চেতন। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, ঘটনার আগে দু’জন মিলে একই কায়দায় হত্যার মহড়াও দিয়েছিলেন, যাতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনও সমস্যা না হয়।

    এই মামলায় পুলিশের নজরে চেতনের এক বন্ধুও। অভিযোগ, কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা তিনি আগে থেকেই জানতেন। অভিযুক্তের সহপাঠীকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ বলে সূত্রের খবর। সে ক্ষেত্রে ওই ছাত্রকে সাক্ষী হিসেবে গণ্য করা হবে কি না বা অন্য কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হবে কি না, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনও কিছু জানাননি।

    লোহাগড় হত্যা মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক ডিজিটাল ও ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী দল এবং সিয়ার পলিগ্রাফ পরীক্ষারও প্রস্তুতি চলছে। কেতন হত্যা মামলার তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশের দাবি, ঘটনার নেপথ্যের পুরো ষড়যন্ত্র উদঘাটনে তাঁরা একাধিক দিক খতিয়ে দেখছেন। এরই মধ্যে মিডিয়ার সামনে সিয়ার এই আচরণ নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)