• চা-চপ বিক্রি করেই জীবদ্দশায় পেয়েছেন নিজের নামে রাস্তা! ভোন্দুর মোড়ের সেই কাহিনী অবাক করবে
    News18 বাংলা | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • চা আর গরম চপ বিক্রি করেই যে মানুষের মনে রাজত্ব করা যায়, তার এক অনন্য ও বিরল নজির গড়েছিলেন তিনি। তবে শহরবাসীর প্রিয় সেই মানুষটি বিদায় নিয়েছেন। রঘুনাথপুরের বাসিন্দা দুর্গাদাস কর। তবে এই নামে তাঁকে খুব কম মানুষই চিনতেন। তিনি ছিলেন শহরের অত্যন্ত আপন ‘ভোন্দুদা’। গত মঙ্গলবার তিনি রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ৮১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণের পর থেকেই গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

    প্রিয় মানুষকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বন্ধ রাখা হয়েছিল তাঁর নামানুসারেই গড়ে ওঠা বিখ্যাত ‘ভোন্দুর মোড়’। কিন্তু একজন সামান্য চা-চপ বিক্রেতা হয়েও কেন সকলের মনে এমন গভীর জায়গা করে নিয়েছিলেন ভোন্দুদা? তার খাবারের অনুরাগীদের কথায়, আসলে ভোন্দুদা শুধু ব্যবসা করতেন না। তিনি মানুষকে ভালবাসতেন। রঘুনাথপুরের মানুষের কাছে তাঁর দোকানটি স্রেফ কোনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছিল না। সকলের কাছে এই দোকানটি কয়েক প্রজন্মের আড্ডা, সুখ-দুঃখের মেলবন্ধনের ঠিকানা।

    জাঁকজমকহীন একচিলতে দোকানে বসে দশকের পর দশক ধরে তিনি মানুষকে যে আতিথেয়তা ও আপনজন সুলভ ব্যবহার দিয়েছেন, তা আজ সবার মনে রয়ে গিয়েছে। কোনও মানুষ জীবিত থাকাকালীন তাঁর নামে সরকারি স্বীকৃতি হিসেবে কোনও মোড়ের নামকরণ হওয়া এক নজিরবিহীন ঘটনা। আর ভোন্দুদা সেই নজির গড়েছিলেন। আজ তাঁর নামানুসারেই শহরের বুকে গড়ে উঠেছে বিখ্যাত ‘ভোন্দুর মোড়’।

    সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আজ সেই মোড়কে কেন্দ্র করে বহু দোকানপাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কিন্তু এই বাজারের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন এই সাধারণ চপ বিক্রেতা। তাই তাঁর মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার ‘রঘুনাথপুর ভোন্দুর মোড় দোকানদার কমিটি’র পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি সভার আয়োজন করা হয়। প্রিয় মানুষটার প্রতি সম্মান জানাতে এবং তাঁর স্মৃতিকে কুর্নিশ জানাতে বিকেল ৬টা পর্যন্ত ওই মোড়ের সমস্ত দোকানপাট সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)