আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাধারণ মানুষকে ফোনের ওপার থেকে বোকা বানিয়ে প্রতারণার গল্প নতুন নয়। কিন্তু সরাসরি রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ বা বিধায়কদের ফাঁদে ফেলা? তাও আবার দেশের বড় বড় ভিআইপি সেজে? শুনতে সিনেমার চিত্রনাট্য মনে হলেও, এমনই এক দাগী জালিয়াতকে গ্রেপ্তার করল বালি থানার পুলিশ। ধৃত যুবকের নাম অভিজিৎ মন্ডল। ফোনের ওপার থেকে কখনও তিনি সেজে উঠতেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি, আবার কখনো সে গলার আওয়াজ বদলে হয়ে যেত মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বা পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান!
পুলিশের জালে ধরা পড়ার পর তদন্তকারীদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। এই যুবকের বিরুদ্ধে রাজ্যের একাধিক থানায় ইতিমধ্যেই অভিযোগের পাহাড় জমেছে। সম্প্রতি এই জালিয়াত ফোন করেছিল রাজ্যের কৃষি মন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলকে। ফোনের ওপারে নিজেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি বলে পরিচয় দেয় সে। কিন্তু মন্ত্রীর সন্দেহ হওয়ায় তিনি কালবিলম্ব না করে বীরভূম পুলিশের দ্বারস্থ হন।
অভিযোগ পেতেই নড়েচড়ে বসে বীরভূম ও বালি থানার পুলিশ। যে মোবাইল নম্বর থেকে ফোন এসেছিল, তার টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করতেই দেখা যায় সেটি বালি এলাকায় রয়েছে। এরপরই বালি থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে এই যুবকের যে কীর্তি সামনে এসেছে, তা ক্রাইম থ্রিলারকেও হার মানায়। পুলিশি জেরায় সে স্বীকার করেছে, সরাসরি দেশের হেভিওয়েট মুখ্যমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত নম্বর তাঁর কাছে থাকত না। তবে তাঁর বুদ্ধি ছিল প্রখর। সে প্রথমে বিভিন্ন রাজ্যের সরকারি দপ্তরে ফোন করত এবং নিজেকে অত্যন্ত উচ্চপদস্থ কোনও কেন্দ্রীয় কর্মকর্তা বা ভিআইপি হিসেবে পরিচয় দিত। গাম্ভীর্যপূর্ণ গলা ও কথা বলার কায়দায় বিশ্বাস করে দপ্তরের কর্মীরাই মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর তাঁর হাতে তুলে দিত।
এর আগে রাজ্যের আরও এক হেভিওয়েট মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকেও মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পরিচয় দিয়ে ফোন করেছিলেন এই যুবক। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দপ্তরেও একই কায়দায় ভুয়ো পরিচয় দিয়ে ফোন করেছিলেন বলে খবর।
কী উদ্দেশ্যে এই যুবক এভাবে একের পর এক ভিআইপি সেজে প্রভাবশালীদের ফোন করতেন? এর পিছনে কোনও বড়সড় আর্থিক প্রতারণার জাল বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই ‘মায়াবী’ ফোনের রহস্যভেদে মরিয়া তদন্তকারীরা।