• গ্রাম থেকে শহরে ফিরবেন ডাক্তাররা, আরও যা যা চাইছে সংগঠনগুলি
    আজ তক | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • চিকিৎসক দিবসে ডাক্তারদের ট্রান্সফার নিয়ে বিরাট ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্বারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এবার থেকে ডাক্তারদের গ্রামে পোস্টিংয়ের দুই বছরের মধ্যে ফিরিয়ে আনা হবে। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাতে খুশি সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন। তারা দ্রুত এই ঘোষণা বাস্তবায়নের পক্ষেই সওয়াল করছেন। 


    চিকিৎসক দিবসে আইএমএ-এর অনুষ্ঠানে ডা: মুখোপাধ্যায় বলেন, 'কোচবিহার কিংবা আলিপুরদুয়ারে কোনও চিকিৎসকের পোস্টিং হলে যদি দেখা যায় তিনি ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নন, তাহলে তাঁকে একবছর-দুবছর, তিন বছর পরে শহরে ফিরিয়ে আনা হবে।' 

    আর এই ঘোষণার পরই খুশির হাওয়া চিকিৎসক সংগঠনগুলির মধ্যে। তাদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। দিনের পর দিন বাইরে থাকতে হয়েছে অনেক চিকিৎসককে। আবার অনেকে কলকাতার হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে গিয়েছেন। তাই নয়া নীতিকে সমর্থন করছেন তারা। 

    এই প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন পশ্চিমবঙ্গ ব্রাঞ্চের সেক্রেটরি ডা: শান্তনু সেন অভিযোগের সুরে বলেন, 'ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে বেনিয়ম বা অনিয়ম হয়েছে। সেটা ডাক্তারদের মনে বা সরকারি কর্মরত চিকিৎসকদের মনে একটা ক্ষোভের বা রাগের কারণ ছিল। এক শ্রেণির চিকিৎসক দিনের পর দিন একটা জায়গাতেই থাকত। আবার এক শ্রেণির চিকিৎসক কাউকে খুশি করতে পারত না বলে বছরের পর বছর অন্য জায়গাতে পোস্টিং দিয়ে রাখা হতো। তাদের ট্রান্সফার হতো না। অন্যদিকে একটা শ্রেণির চিকিৎসক বছরের পর বছর শহরেই থাকত। তাঁরা প্রত্যন্ত প্রান্তে যেত না।' এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নতুন ট্রান্সফার নীতি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলে মনে করেন তিনি। 

    যদিও দ্রুত একটা ট্রান্সফার এবং পোস্টিং ব্যবস্থা চালুর পক্ষেই সওয়াল করল রাষ্ট্রবাদী চিকিৎসক সংগঠন বা এনএমও। এই সংগঠনের দক্ষিণবঙ্গ শাখার সম্পাদক ডা: অর্ণপ পাল বলেন, 'আমরা চাই সরকার একটা স্বচ্ছ নীতি নিয়ে আসুক পোস্টিং, ট্রান্সফার এবং পদোন্নতির ব্যাপারে। স্বচ্ছ নীতির মাধ্যমে যাঁরা সেই ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে পড়বেন, তাঁদের নিয়ম মেনে পদোন্নতি বা ট্রান্সফার হবে।'


    বিগত সরকারের ট্রান্সফার নীতি সম্পর্কে  অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরস এর সম্পাদক ডা: উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি বলেন, 'একটা সময় ঠিক ঠাক ট্রান্সফার হতো। গত ১০-১৫ বছর ধরে আমাদের ব্যবস্থাটা পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। এর ফলে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে, ৮ বছর ১০ বছর বাড়ি থেকে বাইরে কাজ করছেন। তাঁদেরকে ট্রান্সফার দেওয়া হয়নি। বহু ক্ষেত্রে সেখানে টাকা-পয়সা চাওয়া হয়েছে, এরকম অভিযোগ এসেছে। এখন আমরা নতুন যে সরকার এসেছে তার কাছে দাবি করেছিলাম নিয়োগ বলুন, প্রমোশন বলুন, বদলি বলুন, এসবে যেন স্বচ্ছতা এবং নীতি-নিয়ম মেনে করা হয়।'

    পাশাপাশি তিনি জানালেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী কথায় পরিষ্কার সরকার এই বিষয়ে এখন চিন্তাভাবনা করছেন। এই নীতি রূপায়ণ হলে তারা স্বাগত জানাবেন।

     
  • Link to this news (আজ তক)