পার্থর বান্ধবী হতেও কি যোগ্যতা লাগে? অপা 'রিলেশন' অর্পিতা যা যা বললেন
আজ তক | ০৩ জুলাই ২০২৬
সময়টা ২০২২ সালের জুলাই মাস। খবরের শিরোনামে ছিলেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। সে সময়ে যাঁর পরিচিতি ছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের 'বিশেষ বান্ধবী' হিসেবে। তাঁর বেলঘড়িয়া এবং টালিগঞ্জে অবস্থিত ২টি ফ্ল্যাটে ED রেড সাড়া ফেলে দিয়েছিল। উদ্ধার হয়েছিল ৫০ কোটির বেশি টাকা, সেক্স টয়, কিলো কিলো গয়না এবং নিয়োগ দুর্নীতি সম্পর্কিত একাধিক নথি। তারপরই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগ গ্রেফতার হন তিনি। ২ বছর ৪ মাস জেলবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্তি পান অর্পিতা। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট শো-তে যাবতীয় অভিযোগ নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। নিজেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের 'বিশেষ বান্ধবী' হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। জানালেন ED তল্লাশির দিন কী ঘটেছিল।
তৃণমূলের সঙ্গে যোগ
পডকাস্টে অর্পিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, 'আমি কখনওই তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টিতে যোগ দিইনি। আমাকে কখনওই পার্টির কোনও অনুষ্ঠানের মঞ্চে দেখা যায়নি। ২০১৫-১৭ নাগাদ কোনও ব়্যালি, স্পোর্টস ইভেন্ট বা খুঁটি পুজোতে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, আমি গিয়েছিলাম।'
নাকতলার পুজোর মুখ
নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘের দুর্গাপুজো পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পুজো হিসেবেই পরিচিত ছিল। সেই পুজোর মুখ হিসেবে দেখা গিয়েছিল অর্পিতাকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'পার্থ চট্টোপাধ্যায় আমাকে নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘে ডাকেননি। ডেকেছিলেন বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। ২০১৮-১৯ নাগাদ আমার কাছে অফার আসে, ওদের ফেস হওয়ার। ২০১৯-এ আমি কাজটা গ্রহণ করেছিলাম। ২০২০-তেও ওদের পুজোর মুখ ছিলাম আমি। সেই মঞ্চেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার দেখা হয়।'
পার্থর সঙ্গে সম্পর্ক
অর্পিতার সাফ কথা, 'পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার কিছু নেই। ভাল মানুষের সঙ্গে থাকলে মানুষ যেমন গাইডেন্স পায়, আমিও ওঁর থেকে তেমনই গাইডেন্স পেতাম। ওঁকে জিজ্ঞাসা করতাম, পার্থদা এরকম কাজ পেয়েছি, করব কি? সেইটুকুই।'
'আমি বিশেষ বান্ধবী নই'
তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের 'বান্ধবী' ছিলেন না বলে দাবি অর্পিতার। তিনি বলেন, 'গার্লফ্রেন্ডের কোনও ব্যাপার নেই। আমি ওঁকে অভিভাবক হিসেবে মানি। গার্লফ্রেন্ড হিসেবে যোগ্যতা থাকা দরকার। সেটা আমার নেই। একটা বয়সের ব্যাপার থাকে। সেটা তো আমাদের মধ্যে নেই।'
দীর্ঘদিন বাদে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীও। তিনি সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছিলেন, 'অনেকের বউ থাকা সত্ত্বেও বান্ধবী রয়েছে। আর আমার বউ নেই, একটা বন্ধবী থাকতে পারে না?' এ প্রসঙ্গে অর্পিতার মন্তব্য, 'বান্ধবী বা বন্ধু তাঁর চোখে হতেই পারে। আমার চোখে উনি আমার অভিভাবক। বন্ধু কি শুধু প্রেমিকই হয়? সেটাকে কেউ অতিরঞ্জিত করে দেখাতে চাইলে সেটা তাদের সমস্যা।'
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ এবং অর্পিতা গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই হেডলাইন হয়েছে 'পার্থর বান্ধবী', 'বান্ধবী অর্পিতা'। যা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলে অর্পিতা বলেন, 'আমার তো নিজের একটা নাম আছে। কার বান্ধবী আমি? আসলে মানুষ এগুলো খায় বেশি, দেখে বেশি, তাই হয়তো এরকম হেডলাইন হয়। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাক রয়েছে বলেই কালিমালিপ্ত করা হয়েছে। সিনেমা করতে এসেছি বলেই আমাকে একটা নোংরা জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের সম্পর্ক না বুঝেই সুগার ড্যাডি তকমা দিয়ে অনেকে মজা পেল।' যদিও তিনি জানিয়েছেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হয়ে ভোটের প্রচার করেছেন। তবে পরিবারের সদস্য ভোটে দাঁড়াতে যেমনটা করতেন, ঠিক তেমন ভাবেই প্রচার করেছেন তিনি। কারও হুমকি পেয়ে যাননি।
নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কিছু জানতেন না!
অর্পিতার দাবি, 'আমি রাজনীতির মধ্যে ছিলাম না, রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ওঠাবসাও করিনি। তাই এই দুর্নীতির ব্যাপারে কোনও আন্দাজ ছিল না। চোখেও কিছু দেখিনি।'
সবশেষে অর্পিতা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, জেলবন্দি থাকাকালীন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আদালতে দেখা হয়েছে তাঁর, কথাও হয়েছে দু'জনের। কিন্তু তিনি পার্থকে কখনও কোনও কিছুর জন্য দোষারোপ করেননি।