রিলস বানাতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি, গঙ্গায় ডুবে মৃত্যু মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছাত্রের দেহ উদ্ধার৷ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক ছাত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস তৈরির নেশা শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর প্রাণ। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির ১২ মন্দির ঘাটে গঙ্গায় স্নান করতে নেমে ডুবে মৃত্যু হল সোদপুর হাই স্কুলের ছাত্র কৌস্তভ মণ্ডলের। একই ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে তার সহপাঠী নীলচন্দ্র দাস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইংরেজির গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে যাওয়ার কথা থাকলেও সোদপুর হাই স্কুলের দুই ছাত্র নীলচন্দ্র দাস ও কৌস্তভ মণ্ডল গঙ্গার ধারের মনোরম দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করতে পানিহাটির ১২ মন্দির ঘাটে যায়। সেখানে ছবি তোলার পর তারা গঙ্গায় নামে। অভিযোগ, দুই ছাত্রের কেউই সাঁতার জানত না। ফলে জলের স্রোতে তারা ভেসে যেতে শুরু করে।
সেই সময় গঙ্গায় স্নান করছিলেন সাগর চৌধুরী নামে এক যুবক। তিনি দুই ছাত্রকে ভেসে যেতে দেখে উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রাণপণ চেষ্টা করে নীলচন্দ্র দাসকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও কৌস্তভ মণ্ডল স্রোতের টানে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়দহ থানার পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের ডুবুরিরা। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর অবশেষে কিছুটা দূরে নদী থেকে উদ্ধার করা হয় কৌস্তভের নিথর দেহ।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘাটে ছুটে আসেন ছাত্রের পরিবারের সদস্যরা। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে ১২ মন্দির ঘাটে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘাটের নীচের অংশ বিপজ্জনকভাবে ভেঙে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে। বিষয়টি বারবার পুরসভাকে জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে এক ছাত্রের প্রাণ বাঁচানো সাগর চৌধুরী বলেন, ‘‘তিনি ঘটনাটি দেখে সঙ্গে সঙ্গে জলে ঝাঁপ দেন এবং একজনকে উদ্ধার করতে পারলেও অন্যজন তাঁর চোখের সামনেই তলিয়ে যায়।’’ ইংরেজির গৃহশিক্ষক মিলন জানা বলেন, ‘‘নদীর ঘাটগুলিতে প্রশাসনের আরও কড়া নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।’’ বর্তমানে বেলঘরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে নীলচন্দ্র দাস। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে কৌস্তভ মণ্ডলের অকালমৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকাজুড়ে। বিল বানানোর নেশা ক্রমশ মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলেও মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।