• ঘরের ছেলে আজ রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, খোঁজ পেতেই আবেগে ভাসছে গোটা শান্তিপুর
    News18 বাংলা | ০৩ জুলাই ২০২৬
  • রাজ্যে পালাবদলের পর স্বপ্ন পূরণের সন্ধিক্ষণে রাজ্যবাসী। তবে নদিয়াবাসী সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এমনকি কালনার ব্রিজ, কল্যাণীতে এয়ারপোর্টের মতো নানান ঘোষণা পেলেও জেলা থেকে মন্ত্রী না হওয়ার আক্ষেপ কিছুটা রয়েইছে। তবে যারা জানেন না, তাঁদের কাছে আজকের পরে হয়তো সেই আক্ষেপ আর থাকবে না। বিধাননগরের জয়ী বিধায়ক রাজ্যের নবনিযুক্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী শান্তিপুরেরই সন্তান, এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই নদিয়া জেলা ও সংলগ্ন অঞ্চলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত শান্তিপুর এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির জরাজীর্ণ দশা এবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও আন্তরিকতায় দূর হবে বলে মনে করছেন সকলে।

    জানা গিয়েছে, বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পৈতৃক ভিটে নদিয়ার শান্তিপুরের বাগআঁচড়া গ্রামেই। এই এলাকার অত্যন্ত জাগ্রত ও লোকপ্রিয় বাগদেবী মন্দিরে একটা সময়ে পৌরহিত্য করতেন তাঁর বাবা সুধীর মুখোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শৈশব ও প্রাথমিক পড়াশোনা এই গ্রামকে কেন্দ্র করেই। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষা এবং পেশাগত তাগিদে তিনি কলকাতায় চলে যান। তবে ব্যস্ততার মাঝেও নিজের পৈতৃক ভিটের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক আজও অটুট। মন্দিরের বর্তমান পুরোহিত তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জ্যাঠাতো ভাই শুভ্র মুখোপাধ্যায় জানান, মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। পারিবারিক নানা অনুষ্ঠান বা বাবার বাৎসরিক কাজেও তিনি নিয়মিত শান্তিপুরে আসেন। ২০১৮ সালে জ্যাঠামশাইয়ের প্রয়াণের সময়ও তিনি গ্রামে এসেছিলেন।

    শুভ্র মুখোপাধ্যায় আরও জানান, ওনার দাদা একজন অত্যন্ত কৃতি চিকিৎসক তথা অনকোলজিস্ট। ওনার আরেক ভাই থাকেন লন্ডনে। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর শুভ্রবাবু ব্যক্তিগতভাবে দাদাকে ফোন করে চাঁদরা গয়েশপুর ও বাগআঁচড়া সহ শহরেরও পৌর ক্লিনিক সূত্রাগর মাতৃসদন সহ বেশ কিছু প্রাচীন স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রের বর্তমান করার জন্য এবং বেহাল অবস্থার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, কোথাও জঙ্গল হয়ে গিয়েছে, আবার কোথাও নুন্যতম চিকিৎসাটুকু মিলছে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার ভাইয়ের কাছ থেকে সমস্ত তথ্য অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন এবং এই পরিকাঠামো সংস্কারের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

    পার্শ্ববর্তী কালনা হাসপাতালের ওপরেও এই অঞ্চলের বহু মানুষ নির্ভরশীল। তাই কালনা হাসপাতালের পরিকাঠামোকে আরও উন্নত করে সেটিকে আগামীদিনে স্টুডেন্টদের জন্য একটি ‘মেডিক্যাল কলেজ’-এ রূপান্তর করা যায় কিনা, সেই বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। সাংসদ জগন্নাথ সরকার একটি বিশেষ কাজে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে মন্ত্রী নিজেই তাঁর কাছে শান্তিপুরের সন্তান হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, শান্তিপুরের প্রতি ইঞ্চি জায়গা সম্পর্কে তিনি দলীয় প্রতিনিধিদের থেকে কোনও অংশে কম খোঁজখবর রাখেন না। সাংসদ জগন্নাথ সরকারও জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পৈতৃক ভিটে এখনও শান্তিপুরে রয়েছে এবং তিনি ঐতিহ্যবাহী বাগদেবী মন্দিরেরও একজন অংশীদার।

    আর এতেই সংসদ আশাবাদী কেন্দ্র এবং রাজ্য ডবল ইঞ্জিন সরকার যেমন নানান বিষয়ের মতন স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নয়ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন তা শান্তিপুর এর ক্ষেত্রেও। সাংসদ বিধায়ক এবং মন্ত্রী, ত্রয়ী প্রচেষ্টায়, আশা পূরণ হবে শান্তিপুর এবং পার্শ্ববর্তী জেলার বিভিন্ন এলাকার। শুভ্র মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এলাকার বিধায়ক সংসদ চাইলে তিনিও শান্তিপুরের স্বাস্থ্য উন্নয়নে দাদার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে প্রস্তুত। সারা রাজ্যের গুরুদায়িত্ব কাঁধে থাকলেও ঘরের ছেলের হাত ধরে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালসহ গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি আবারও প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠবে এবং সমস্ত জরা কাটিয়ে সাধারণ মানুষ সুস্বাস্থ্য পাবে, এই আশায় বুক বাঁধছে শান্তিপুরবাসী।
  • Link to this news (News18 বাংলা)