বিধায়াকদের সই জাল সংক্রান্ত মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়াল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের আদালত জানিয়েছে, যে হেতু বিচারপতি কৌশিক চন্দের আদালতে এই মামলার হচ্ছে এবং বিচারপতি চন্দ বর্তমানে সার্কিট বেঞ্চে রয়েছেন, তার জন্য এই মামলায় ১৭ জুলাই পর্যন্ত অভিষেকের রক্ষাকবচ বহাল থাকবে।
সই জালিয়াতির অভিযোগের মামলায় সিআইডি-র প্রথম তিন বারের তলবে সাড়াই দেননি অভিষেক। উল্টে রক্ষাকবচ চেয়ে মামলা করেছিলেন হাইকোর্টে। গত মাসে সেই মামলায় শুনানির দিন বিচারপতি চন্দ নির্দেশ দেন, সেই দিনই সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভবানী ভবনে গিয়ে সিআইডির সামনে হাজিরা দিতে হবে অভিষেককে। সেই মতো সে দিনই অভিষেক দিল্লি থেকে ফিরে ভবানী ভবনে যান। গভীর রাত পর্যন্ত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে বিধায়কদের সই জালিয়াতির অভিযোগের মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। সেই শুনানিতেই অভিষেককে রক্ষাকবচ দিয়েছিলেন বিচারপতি চন্দ। তাঁর নির্দেশ ছিল, আপাতত তিন সপ্তাহ কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না সিআইডি। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে এবং সমন পাঠালে হাজিরাও দিতে হবে। হাজিরার জন্য সিআইডিকে ২৪ ঘণ্টা আগাম সময় দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করে বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তাতে কয়েক জন বিধায়কের সইতে ‘অসঙ্গতি’ পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই তদন্তভার রাজ্য সরকার তুলে দেয় সিআইডি-র হাতে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওই চিঠিতে অভিষেকের স্বাক্ষর ছিল। বিধানসভায় তৃণমূলের তরফে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তাতে বিরোধী দলনেতা হিসাবে শোভনদেব, ডেপুটি লিডার হিসাবে অসীমা পাত্র, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চিফ হুইপ হিসাবে ফিরহাদ হাকিমের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। চিঠিতে মোট ৭০ জন বিধায়কের নাম ছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে তার মধ্যে অন্তত ১৪ জনের নাম লেখা ছিল ব্লক লেটারে। অভিযোগ, তাঁদের কোনও সই পাওয়া যায়নি। অনেকের সইতে আবার অসঙ্গতি ছিল বলেও অভিযোগ।