আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই তিনি বেপাত্তা ছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে গত বুধবার পুরুলিয়া থেকে প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর তথা অভিষেক ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেপ্তার হন। তবে সেখানেই শেষ নয়। সময় যত এগোচ্ছে, দেবরাজ কাণ্ডে ততই সামনে আসছে বড় তথ্য। দেবরাজ গ্রেপ্তার হতেই দিল্লির নির্দেশ আসার পর ইডির পক্ষ থেকে দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ECIR করা হয়। এরই মাঝে দেবরাজের বিষয়ে ভয়াবহ তথ্য সামনে চলে এল। যা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে বাংলার রাজনীতিতে।
পুলিশ সূত্রে খবর, দেবরাজ চক্রবর্তী মোট তিনটি ফোন ব্যবহার করত। গ্রেপ্তারের পর একটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তার আরও দুটি মোবাইল ফোনের খোঁজ করছে সিট। যে মোবাইল ফোনটি পাওয়া গিয়েছে, সেই মোবাইল ফোন থেকে একাধিক চ্যাট ডিলিট করা হয়েছে। সেখান থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিও পাওয়া গিয়েছে। দেবরাজের বাকি যে দুটি মোবাইল ফোন রয়েছে, সেগুলি থেকেও আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই ফোন দিয়ে কাদের সঙ্গে কথা বলত দেবরাজ, কাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, তা সেই মোবাইল দুটির চ্যাট হিস্ট্রি থেকে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। যদিও ওই ফোন দুটি কোথায় লুকানো হয়েছে, সেই বিষয়ে জানার জন্য দেবরাজ চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে সিটের পক্ষ থেকে।
ইতিমধ্যে দেবরাজ চক্রবর্তীর মামলায় সিট গঠন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে ছ'জনের সিট গঠন করা হয়েছে। এই ছ'জনের নেতৃত্বে রয়েছেন ডিসি, থানার আইসি এবং আরও চারজন দক্ষ অফিসার। একইসঙ্গে প্রাপ্ত তথ্য, দেবরাজ চক্রবর্তীর যে ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে পুলিশ, সেই ল্যাপটপ খুলতেই বেরিয়ে এসেছে বিপুল তথ্য। সেখান থেকে তাঁর বিপুল আর্থিক লেনদেন এবং ডিসি গ্লোবাল সংস্থার মাধ্যমে জমি কেনার তথ্যও সমানে এসেছে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারী আধিকারিকেরা খতিয়ে দেখছেন সবটাই।
বুধবার রাতে পুরুলিয়ায় ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া এলাকা থেকে দেবরাজকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে বারাসত আদালতে পেশ করে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজত চেয়েছিলেন তদন্তকারী আধিকারকরা, বিচারক ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। আদালত রক্ষা কবচ তুলে নিতেই আশঙ্কা ছিল গ্রেফতারির। তাই কোনও দেরি না করে গা ঢাকা দেন দেবরাজ। কলকাতা ছেড়ে ভিনরাজ্যে পালানোর ছক কষেন। পুলিশি জেরার মুখে দেবরাজ জানিয়েছেন, ১৫ জুন বাগুইআটি থেকে বাসে চেপে সোজা উত্তরবঙ্গ হয়ে ওড়িশা পৌঁছে যান। সেখান থেকে অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ু, কেরল, জামশেদপুর, ধানবাদ হয়ে পুরুলিয়া ঝাড়খণ্ড বর্ডারে পৌঁছন। সেখান থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়৷