• দিল্লি থেকে ফিরেই তৃণমূল ভবন 'দখল'!
    আজকাল | ০৪ জুলাই ২০২৬
  • রিয়া পাত্র: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষমতা দখলের লড়াই এবার এক নাটকীয় মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। দিল্লি থেকে ফিরেই আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সোজা ইএম বাইপাসের তৃণমূল ভবন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিলেন ঋতব্রত ব্যানার্জি, ফিরহাদ হাকিমরা। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই সেখানে শুরু হয়ে গিয়েছে ম্যারাথন বৈঠক। তার আগে দুপুরে দিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করে ঋতব্রত শিবির সাফ দাবি করে এসেছে, ঘাসফুল শিবিরের আসল নিয়ন্ত্রক আসলে তাঁরাই। দল বা প্রতীক নিয়ে কোনও ধোঁয়াশাই নেই।

    নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের ঋতব্রতের নেতৃত্বে ১০ জনের এক প্রতিনিধি দল হাজির হয়েছিল, যার মধ্যে ছিলেন ৯ জন বিধায়ক ও একজন প্রাক্তন মন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁরা দাবি করেন, দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক, কাউন্সিলর এবং জেলা পরিষদের সদস্যরা তাঁদের পাশেই আছেন। ফলে প্রতীক বা দলের নাম হাতছাড়া হওয়ার কোনও আশঙ্কাই নেই। তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, যদি সত্যিই কোনও সংশয় না থাকে, তবে তড়িঘড়ি কমিশনে যাওয়ার কী দরকার ছিল? ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, আসল লড়াইটা আসলে দলের প্রতীক আর কোটি কোটি টাকার দলীয় তহবিলের রাশ নিজেদের হাতে রাখার। ঋতব্রতরা চাইছেন, দলের নতুন কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামানের হাতেই যেন তহবিলের পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন এবং আগামী সোমবারের মধ্যে পুরো বিষয়টি লিখিত আকারে জমা দিতে বলেছেন।

    এদিকে এই বিদ্রোহকে রুখতে পাল্টা কোমর বাঁধছে মমতা ব্যানার্জির  কালীঘাট শিবির। আগামী ৬ জুলাই নির্বাচন কমিশনে সমস্ত নথিপত্র জমা দিতে চলেছে তারা। মমতা-শিবিরের নেতাদের মূল অস্ত্র হতে চলেছে নেত্রীর নিজের সই। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, আজ যাঁরা নিজেদের 'আসল তৃণমূল' বলে দাবি করছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই মমতা ব্যানার্জির  সই করা প্রতীকে জিতে বিধায়ক হয়েছেন। পাশাপাশি, নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের সর্বভারতীয় সম্মেলনে যেভাবে মমতাদিকে সর্বসম্মতিতে দলের চেয়ারপার্সন বাছা হয়েছিল এবং মেঘালয় সহ অন্যান্য রাজ্যের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন— সেই সমস্ত আইনি ও সাংগঠনিক নথি কমিশনের টেবিলে পেশ করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্রোহীদের দল থেকে বহিষ্কারের তথ্যও তুলে ধরা হতে পারে।

    এই গোটা টানাপোড়েনের পিছনে বিজেপির হাত দেখছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর তীব্র তোপ, বাংলায় মমতা ব্যানার্জির  রাজনৈতিকভাবে ভয় পায় বলেই নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে বিজেপি এই নোংরা খেলা খেলছে। অন্যান্য রাজ্যেও তারা এই কাজ করেছে, কিন্তু বাংলার সাধারণ কর্মী-সমর্থকেরা নেত্রীর সাথেই আছেন। গত ২২ জুনের বিশেষ অধিবেশনে অরূপ রায়কে চেয়ারপার্সন আর আখরুজ্জামানকে কোষাধ্যক্ষ ঘোষণা করে যে লড়াইয়ের সূত্রপাত করেছিল ঋতব্রত শিবির, তা এখন দিল্লির দরবারে পৌঁছাল। এখন দেখার, সোমবার লিখিত বয়ান জমা পড়ার পর নির্বাচন কমিশন এই আসল-নকলের লড়াইয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।
  • Link to this news (আজকাল)