• নরেন্দ্রপুর কাণ্ডে দীপ্তাংশুর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ!আবেগে ভাসল পুরনো স্কুল নব নালন্দা শিশু বিদ্যাপীঠ
    News18 বাংলা | ০৪ জুলাই ২০২৬
  • প্রাক্তন ছাত্র দীপ্তাংশুর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ মধ্যমগ্রামের নব নালন্দা শিশু বিদ্যাপীঠ৷ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র দীপ্তাংশু মাহাতোর অকালমৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর প্রাক্তন বিদ্যালয় মধ্যমগ্রামের নব নালন্দা শিশু বিদ্যাপীঠে। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত এই বিদ্যালয়েই পড়াশোনা করেছিল দীপ্তাংশু।

    শুক্রবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে শোকবার্তা টাঙানো হয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে “নব নালন্দা শিশু বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন ছাত্র, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে অধ্যয়নরত দীপ্তাংশু মাহাতোর অকাল প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিতা রায় বলেন, ‘‘দীপ্তাংশু অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র ছাত্র ছাত্র ছিল। যদিও প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীই বিদ্যালয়ের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ, তবুও দীপ্তাংশুর সাফল্য বিদ্যালয়ের কাছে গর্বের বিষয় ছিল। পরবর্তীতে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে ভর্তি হওয়ার খবরেও গোটা বিদ্যালয় আনন্দিত হয়েছিল। কিন্তু আজ তার মৃত্যুর খবরে সকলেই গভীরভাবে মর্মাহত।’’

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নও তুলেছেন প্রধান শিক্ষিকা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এত বড় ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কীভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তৎপরতা নিয়ে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসা উচিত।’’ ভবিষ্যতে যাতে কোনও ছাত্রের সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে, সেই বিষয়েও জোর দেন তিনি।

    বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা দেখান সেই শ্রেণিকক্ষ, যেখানে একসময় অন্য পড়ুয়াদের মতোই বসে পড়াশোনা করত দীপ্তাংশু। বর্তমানে সেখানে নতুন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনায় ব্যস্ত। সেই দৃশ্যের মধ্যেই প্রাক্তন ছাত্রের স্মৃতি যেন আরও বেশি করে ফিরে আসছে শিক্ষকদের মনে।

    উল্লেখ্য, দীপ্তাংশুর দিদি মঞ্জিমাও এই বিদ্যালয়েরই প্রাক্তনী। দুই ভাইবোনই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দীপ্তাংশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে নব নালন্দা শিশু বিদ্যাপীঠ কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শোকগ্রস্ত ছাত্রের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছে বিদ্যালয়।
  • Link to this news (News18 বাংলা)