ধোঁয়া, জ্বলন্ত ঢাকনা এবং এক পলাতক: RPF কর্তৃক দিব্যাঙ্গজন কোচে অগ্নিকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন
News18 বাংলা | ০৪ জুলাই ২০২৬
২১ জুন, ২০২৬, এক শান্ত দুপুর। বারহারোয়া স্টেশন থেকে ৫৩৪৩৪ ডাউন (বারহারোয়া-আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার) ট্রেনটি ধীরে ধীরে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ছেড়ে যাচ্ছিল। কিছু মিনিট পরেই জরুরি ব্রেক কষার শব্দ শোনা গেল—কেউ একজন এমার্জেন্সি চেইন টেনেছেন। ইঞ্জিনের ঠিক পিছনে থাকা দিব্যাঙ্গজন (প্রতিবন্ধী-বান্ধব) কোচের শৌচাগারে আগুন লেগেছে—এই খবর ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। কর্তব্যরত আরপিএফ কনস্টেবল মৃত্যুঞ্জয় কুমার, এসআই লাল বাহাদুর মাঝি এবং কনস্টেবল অনিল কুমার ধোঁয়ার দিকে ছুটে যান। শৌচাগারের ভেতরে গিয়ে তারা দেখতে পান, ওয়েস্টার্ন-স্টাইল টয়লেট প্যানের ফাইবার ঢাকনাটি মেঝেতে দাউদাউ করে জ্বলছে। সেখানে কোনো কাগজ, কাপড় বা পেট্রোল কিংবা কেরোসিনের গন্ধ ছিল না—আগুন কীভাবে লাগল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে যায়। অপরাধী ততক্ষণে উধাও ! বারহারোয়া আরপিএফ পোস্ট অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে রেলওয়ে আইনের ১৫৩ ধারায় একটি মামলা দায়ের করে এবং দক্ষ গোয়েন্দা তদন্ত শুরু করে।
আরও পড়ুন– সেবাশ্রয় নিয়ে এবার অ্যাকশনে রাজ্য, যা যা অভিযোগ জমা পড়েছে তার ভিত্তিতে তদন্ত রিপোর্ট চাইল স্বাস্থ্য দফতর
কর্মকর্তারা বারহারোয়া ও সাহেবগঞ্জ স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। যদিও ক্যামেরায় সরাসরি ট্রেনে ওঠার দৃশ্য ধরা পড়েনি, তবে তদন্তকারী দল সন্দেহভাজনদের পোশাকের রঙ এবং তাদের হাঁটার ধরন (গেইট অ্যানালিসিস) দেখে চিহ্নিত করতে শুরু করে। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্করের নির্দেশনায়, আরপিএফ দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একটি ফাঁদ পাতে। ২৯ জুন সাহেবগঞ্জ স্টেশনে সেই একই ট্রেনে সন্দেহভাজনকে দেখা যায় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। রহস্যের কিনারা হয়, অভিযুক্ত স্বীকার করে যে সে কোচে উঠে টয়লেটে বিড়ি খেয়েছিল এবং প্লাস্টিকের ঢাকনায় ঘষে তা নেভানোর চেষ্টা করার সময় আগুন লেগে যায়। আতঙ্কিত হয়ে সে ধীরগতিতে চলতে থাকা ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়েছিল। তাকে সাহেবগঞ্জের মাননীয় আরজেএম-এর আদালতে হাজির করা হয় এবং ২৪ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন- ‘দেশ সবার আগে’: বিশেষ বার্তায় পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ অমরনাথ যাত্রার ডাক প্রধানমন্ত্রী মোদির
রেলওয়ে নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে জনসাধারণের সহযোগিতার গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে, পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন, ‘‘নিরাপত্তা পূর্ব রেলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং আমাদের যাত্রীদের বা রেলের সম্পত্তির ক্ষতি করে এমন যেকোনও কাজের প্রতি আমাদের জিরো-টলারেন্স নীতি রয়েছে। ট্রেনের ভেতরে ধূমপান করা কেবল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং বেআইনিই নয়, বরং এই ঘটনাটি যেমন দেখাল, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতির কারণ হতে পারে। আমরা সকল যাত্রীদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে, নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে এবং কোনো সন্দেহজনক আচরণ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি দেখলে অবিলম্বে আরপিএফ বা ট্রেন কর্মীদের কাছে রিপোর্ট করার আহ্বান জানাচ্ছি।’’