• তৃণমূল ভবন 'দখল' করে তালা মারলেন ঋতব্রতরা, খুলতে গেলেন কুণালরা
    আজ তক | ০৪ জুলাই ২০২৬
  • শুক্রবার কার্যত মেট্রোপলিটন ইএম বাইপাসের তৃণমূল ভবনের 'দখল' নিল ঋতব্রত তৃণমূল। হল বৈঠকও। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে পৌঁছলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা নাগাদ তিনি তৃণমূল ভবনে এসে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি, ঋতব্রত-শিবিরের পদক্ষেপ নিয়ে নাম না করেই কটাক্ষও করেন কুণাল।

    শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের একাধিক বিধায়ক ও নেতা মেট্রোপলিটন ইএম বাইপাসের তৃণমূল ভবনে পৌঁছন। ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামানরা। সেখানে কিছুক্ষণ বৈঠক করেন তাঁরা। তার পর পার্টি অফিসের বাইরে নতুন একটি ব্যানারও টাঙানো হয়। ব্যানারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির পাশাপাশি চেয়ারম্যান হিসেবে অরূপ রায়ের নাম উল্লেখ করা হয়। 

    ঋতব্রত-শিবিরের এই পদক্ষেপের পরেই সন্ধ্যায় তৃণমূল ভবনে পৌঁছন কুণাল ঘোষ। গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে ঘিরে ধরেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। পরে তিনি পার্টি অফিসের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গোটা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

    কুণাল ঘোষ ছাড়াও ছিলেন তৃণমূল নেত্রী জয়া দত্ত, উপাসনা চৌধুরী এবং নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা পার্টি অফিসের বাইরেই পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন।

    কী বললেন কুণাল?
    সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ জানান, প্রথমে তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবেন। তারপর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হবে।

    একই সঙ্গে ঋতব্রত-শিবিরের নাম না করেই কটাক্ষ করেন তিনি। কুণালের কথায়, 'একটা ঘটনা ঘটেছে। কারও কারও মনে হয়েছে দিনের আলোয় আসা যায় না। তাই সন্ধের পরে বা রাতের অন্ধকারে এসে কিছু কাজ করে গিয়েছেন।'

    তিনি আরও বলেন, 'এখন যেহেতু বিষয়টি নিয়ে বিবাদ তৈরি হয়েছে, তাই আইনি দিকও খতিয়ে দেখতে হবে। আমরা কোনও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করতে পারি না। এটা তৃণমূলের পার্টি অফিস। যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরাও তৃণমূলের প্রতীকে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীকেই নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু এই ধরনের আচরণে দলের কর্মীরা আহত এবং ক্ষুব্ধ হচ্ছেন।'

    প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করে। সেই বৈঠকে দলের সাংগঠনিক পরিবর্তন সংক্রান্ত নথিও জমা দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

    তার এক দিনের মধ্যেই কলকাতার তৃণমূল ভবনে গিয়ে বৈঠক করে ঋতব্রত-শিবির। এরপর কুণাল ঘোষের সেখানে পৌঁছনো এবং তাঁর প্রতিক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল ভবনকে কেন্দ্র এই পরিস্থিতি কোনদিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। 
  • Link to this news (আজ তক)