বর্ষায় দুর্ভোগ রুখতে পরিকল্পনা, জেলা পরিষদের ভাঁড়ার বাড়াতে আয়ের নতুন উৎসের খোঁজ
News18 বাংলা | ০৪ জুলাই ২০২৬
রাজনৈতিক পালাবদলের পর পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে এবার প্রশাসনিক সমন্বয় ও উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় শুরু হল। জেলা পরিষদের সতীশ সামন্ত সভাকক্ষে আয়োজিত সাধারণ সভা থেকে জেলার উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার বার্তা দেওয়া হল। ত্রিস্তর পঞ্চায়েত, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটিয়ে গ্রামীণ পরিকাঠামোর ভোলবদল, বর্ষার দুর্ভোগ মোকাবিলা এবং সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মত একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে।
সম্প্রতি জেলা পরিষদের তৃণমূলের সভাধিপতি ও সহ-সভাপতির পদত্যাগের পর নিয়ম মেনে নতুন সভাধিপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বিজেপি নেতা বামদেব গুছাইত। দায়িত্বভার গ্রহণের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম সাধারণ সভা। স্বভাবতই এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী, বিভিন্ন ব্লকের বিধায়ক, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ, সদস্য এবং বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা।
বর্ষার মরশুমে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে জেলার দীর্ঘদিন ধরে বেহাল ও ভেঙে পড়া গ্রামীণ রাস্তাঘাট দ্রুত মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্ষায় জল জমার সমস্যা দূর করতে নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হবে। পরিকাঠামোগত ঘাটতি থাকা এলাকাগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা পরিষদের নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে আয়ের নতুন উৎস খোঁজা হবে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে থাকা জেলা পরিষদের কোটি কোটি টাকার জমি ও সম্পত্তি চিহ্নিত করে তা দ্রুত উদ্ধার করতে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী জানান, “বর্ষাকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
রাস্তা মেরামত ও নিকাশি সচল করার ক্ষেত্রে কোনও আপস করা হবে না। জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের একযোগে লড়তে হবে।” অন্যদিকে, সভাধিপতি বামদেব গুছাইত এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “জেলা পরিষদের ইতিহাসে এই প্রথম সমস্ত স্তরের জনপ্রতিনিধিরা খোলামেলা পরিবেশে এলাকার সমস্যা ও ঘাটতিগুলি সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পেলেন। এই সমন্বয় আগামীদিনে উন্নয়নের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।” রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে পূর্ব মেদিনীপুরের সামগ্রিক স্বার্থে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের এই যৌথ কর্মপরিকল্পনা জেলাবাসীর মনে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।