হাজিরার নোটিস পাওয়ার পরেও মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর থানায় গেলেন না নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তবে, আজ, শনিবার, রেজিনগর থানায় হাজিরা দিতে যাওয়ার কথা আছে তাঁর। সেখানে হাজিরা দিতে যাওয়ার আগেই পুলিশের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন হুমায়ুন কবীর।
উস্কানিমূলক কথা বলার অভিযোগ উঠেছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে রেজিনগর থানার পাশাপাশি অভিযোগ দায়ের হয়েছে শক্তিপুর থানাতেও। হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে দু'টি FIR দায়ের হওয়ার পরে কড়া পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির তিন জন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে রেজিনগর থানার পুলিশ। মুখ্য়মন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে থানায় হাজির দেওয়ার জন্য নোটিস পাঠানো হয় হুমায়ুন কবীরকে। শুক্রবার তাঁকে শক্তিপুর থানায় হাজির দেওয়ার জন্য সমন পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশের ওই নোটিস উপেক্ষা করেন তিনি। শুক্রবার তিনি হাজিরা দেননি শক্তিপুর থানায়।
কেন? তাও জানিয়েছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, তিনি যে শুক্রবার থানায় যাবেন না তা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন। এ দিন তিনি নারকেলবাড়ি ঘাট পেরিয়ে বেলডাঙা হয়ে রেজিনগরের ছেতিয়ানি এলাকায় এসে নির্মিয়মান বাবরি মসজিদ প্রাঙ্গনে নামাজ পড়েন।
উল্লেখ্য, গত গত ৭ জুন শক্তিপুর থানার গড়দুয়ারা এলাকায় সভা করে ওসি অতনু দাশকে তীব্র আক্রমণ করে বেলাগাম কথাবার্তা বলেছিলেন হুমায়ুন। এই নিয়ে হওয়া মামলায় তাঁকে থানায় হাজিরা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। তবে এ দিন থানায় না গিয়ে ফের বিতর্কিত কথা বলেছেন নওদার বিধায়ক। তিনি ফের আক্রমণ করে শক্তিপুর থানার ওসিকে। হাজিরা না দেওয়া নিয়ে সংবাদমাধ্যমের একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শক্তিপুর থানার যে ওসি আছেন, তাঁর আচরণ বদলে গিয়েছে। গত ৩০ তারিখ থেকে সে আবার হুমায়ুন কবীরের বাপ হয়েছে। সে নিজেকে জাহির করে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ করছে। বলছে হুমায়ুন কবীরের বাপ। সে আমার বাপ হয়েছে। বাপের সঙ্গে পরে দেখা করতে যাব। কত জনকে নিয়ে যাব তা সময় আসলেই জেলা প্রশাসন জানতে পারবে।’
এরই সঙ্গে, গত ২৬ জুন রেজিনগর থানার কাশীপুরে সভা থেকেও বেলাগাম ও বিতর্কিত মন্তব্য করেন হুমায়ুন। ওই মন্তব্যের জেরে রেজিনগর থানায় হওয়া মামলায় আজ, শনিবার (৪ জুলাই) হাজির হওয়ার কথা রয়েছে হুমায়ুনের। সঙ্গে ১০০টি গাড়ি ভর্তি করে প্রায় ১ হাজার লোক নিয়ে রেজিনগর থানায় হাজিরা দিতে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলে তাঁর সঙ্গে সঙ্গে থাকা এক হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হবেন। তাঁরাও তাঁর সঙ্গে জেলে যাবেন বলে জানিয়েছেন নওদার বিধায়ক।