এই সময়: পঞ্চায়েত দুর্নীতির মোকাবিলায় রাজ্য সরকার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের ক্ষমতা ছাঁটতে চায়। এর জন্য ওডিশা মডেলকে সামনে রেখে প্রধানদের বদলে পঞ্চায়েতের সরকারি কর্মী অর্থাৎ সচিব বা এগজ়িকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টদের হাতে আর্থিক অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ার মূল ক্ষমতা তুলে দিতে চায় নবান্ন। বর্তমানে গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিবের সঙ্গে যৌথ ভাবে টাকা খরচ এবং আর্থিক লেনদেনের প্রশাসনিক ক্ষমতা রয়েছে পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে। অর্থ কমিশনের টাকা খরচে টেন্ডার ডাকা থেকে শুরু করে টাকা ছাড়ার ক্ষমতা মূলত তাঁদের হাতেই রয়েছে।
নবান্ন সূত্রের খবর, এর জন্য ১৯৭৩–এর পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইনের সংশোধনী আনা হচ্ছে। তার জন্য বিধানসভায় বিল আনা হবে, নাকি অর্ডিন্যান্স করা হবে— তা খতিয়ে দেখছে নবান্ন। সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক বৈঠকেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পঞ্চায়েত দপ্তরের কর্তাদের এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন।
বর্তমান আইন অনুযায়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হলেন আর্থিক ও কার্যনির্বাহী প্রধান। জেলা পরিষদের সভাধিপতি বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিরও এই ক্ষমতা নেই। প্রশাসনের কর্তাদের একাংশের যুক্তি, এই ক্ষমতাই গ্রাম পঞ্চয়েতে সমস্ত দুর্নীতির উৎস। যদিও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা তহবিল থেকে টাকা তোলার জন্য সাধারণত প্রধান এবং পঞ্চায়েতের সচিব বা এগজ়িকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের যৌথ স্বাক্ষর লাগে। তারপরেও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে ১০০ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প থেকে অর্থ কমিশনের টাকা খরচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে প্রধানেরই।
এ বার সেই ক্ষমতা তুলে নিয়ে সরাসরি গ্রাম পঞ্চায়েতের সরকারি আধিকারিকদের হাতেই দিতে চায় রাজ্য। এতে সরকারি আধিকারিকদের দায়বদ্ধতা থেকে শুরু করে কাজের গুণগত মান বাড়বে, অপচয় কমবে এবং দুর্নীতিও নিয়ন্ত্রিত হবে বলে মনে করেন প্রশাসনিক কর্তারা। রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠিত হওয়ার পরে জব কার্ড যাচাই পর্ব শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রচুর ভুয়ো জব কার্ড চিহ্নিতও হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার ১ জুলাই থেকে ‘মনরেগা’র বদলে ১২৫ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প ‘ভিবি-জি রামজি’ চালু করেছে। এই প্রকল্প রূপায়ণের আগে রাজ্য সরকার জব কার্ড যাচাইয়ের কাজ সেরে ফেলতে চায়। এ ছাড়াও নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের অন্যতম শর্ত হলো, কাজ শেষ হওয়ার পরো ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি মেটাতে হবে। না হলে সরকারকে বিলম্বের জন্য প্রতিদিন ০.০৫ শতাংশ হারে পেনাল্টি বা জরিমানা দিয়ে শ্রমিকদের মজুরি মেটাতে হবে। এই পেনাল্টির টাকা দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। রাজ্যে বর্তমানে ৩,৩৪৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। যার প্রায় সবই এতদিন ছিল তৃণমূল নিয়ন্ত্রত। রাজ্যে পালাবদলের পরে বহু প্রধান দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন।এই পরিস্থিতিতে ‘ভিবি-জি রামজি’ প্রকল্প চালু হলে শ্রমিকদের মজুরি দিতে দেরি হতে পারে। দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তার আঁচ পড়বে রাজ্য সরকারের উপরেই। সেই কারণেই রাজ্য পঞ্চায়েত আইন সংশোধন করতে চায় বলে দাবি নবান্ন সূত্রের।