• ৩৪ বছর পার্টি অফিস থেকে সিদ্ধান্ত, ১৫ বছরের কথা না বলাই ভালো, শুভেন্দুর তিরে গত দুই জমানা
    এই সময় | ০৪ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: বঙ্গে ৩৪ বছরের বাম শাসন নিয়ে তৎকালীন বিরোধীদের অভিযোগের অন্ত ছিল না। ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পরে গত কয়েক বছরে রাজ্যের পরিষদীয় রাজনীতিতে কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে বামেরা। দেড় দশকের তৃণমূল জমানাতেও বিভিন্ন‍ ইস্যুতে অভিযোগের অন্ত ছিল না বিরোধীদের। শুক্রবার রাজ্যের নব নির্বাচিত বিধায়কদের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এল পূর্ববর্তী দুই দলের শাসনকালের কথা। শুভেন্দু এ দিন বলেন, ‘৩৪ বছর সরকার চলেছে পার্টি অফিস থেকে। আর ১৫ বছর ধরে কী চলেছে, সে কথা আর বলছি না।’ তবে সেই সংস্কৃতির যে বদল শুরু হয়েছে, সে কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘আমাদের লড়াই, বাংলাকে আবার ঘুরে দাঁড় করানোর। আগামী দিনে বাংলা আবার দেশকে নেতৃত্ব দেবে।’

    এ দিনের অনুষ্ঠানে ছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারপার্সন হরিবংশ নারায়ণ সিং, কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। ছিলেন উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, উত্তরাখণ্ড বিধানসভার অধ্যক্ষরা৷ রাজ্যের বিধানসভার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ‘পার্লামেন্টারি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি’ (প্রাইড) রাজ্যের নবনির্বাচিত বিধায়কদের জন্য এই বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করেছিল। আজ, শনিবার শেষ হবে ওই কর্মশালা।

    শুভেন্দু এ দিন বলেন, ‘সরকার হবে বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল, অফ দ্য পিপল। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আগের সরকার ছিল বাই দ্য পার্টি, ফর দ্য পার্টি, অফ দ্য পার্টি। আমাদের সরকার তা হবে না।’ তাঁর সংযোজন, ‘৩৪ বছর রাজ্যে বামেরা ক্ষমতায় ছিল। তখন পার্টি অফিস থেকে সিদ্ধান্ত হতো। পরের ১৫ বছরের কথা না বলাই ভালো, সে কথা আর বলতেও চাই না।’ তৃণমূল সরকারকে বিঁধে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘আমি দেখেছি, এখানে একটা সিস্টেম চালু হয়ে গিয়েছিল। সেই ব্যবস্থায় বিরোধী দলের এক জন বিধায়ক বা সাংসদের কোনও মর্যাদা ছিল না। এক জন বিডিও বা থানার আধিকারিক পর্যন্ত বিধায়কদের ফোন ধরতেন না। সরকারি কোনও অনুষ্ঠানে বিরোধী বিধায়কদের ডাকা হতো না।’ বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শুভেন্দু জানান, তাঁকেও কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হতো না৷ মুখ খুললেই বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করা হতো।

    লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বিধায়কদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিধানসভায় বিতর্কের উদ্দেশ্য সমালোচনার পরিবর্তে সমাধান–কেন্দ্রিক হওয়া উচিত।’ বিধানসভার কার্যক্রমে সমালোচনা একটি অপরিহার্য অঙ্গ হলেও, স্পিকার মনে করেন, ‘প্রতিটি আলোচনাতেই জনগণের সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজার চেষ্টা থাকা উচিত।’ বিধায়কদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘মনে রাখবেন, প্রত্যেক জনপ্রতিনিধি হলেন তাঁর কেন্দ্রের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর। ফলে তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরার দিকে বিধায়কদের নজর দেওয়া উচিত।’ তাঁর পরামর্শ, বিধানসভায় সহকর্মী সদস্যদের যুক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গিও মন দিয়ে শোনা উচিত। তাতে জনপ্রতিনিধিরা সম্ৃদ্ধ হবেন।

    রিজিজু নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলেন, ‘আমি আট বারের জনপ্রতিনিধি। আগে দেখতাম, বামেদের সাংসদ সংখ্যা বেশি। তাঁদের কাছে জানতে চাইতাম, আপানাদের ভোটে কত খরচ হয়? তাঁরা বলতেন, ৫-৬ হাজার টাকা! অবাক হয়ে েযতাম। কারণ, অন্যান্য জায়গায় তো অনেক টাকা খরচ করতে হয়!’ তাঁর সংযোজন, ‘টাকা দিয়ে ভোট করানো বন্ধ হওয়া উচিত।’ রিজিজুও জানান, বিধায়কদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, যত বেশি সময় বিধানসভায় কাটানো যায়। তিনি জানান, আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে বাংলার বিধানসভা পুরোপুরি ডিজিটাইজ়ড হয়ে যাবে। তার জন্য প্রথম পর্যায়ের টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে ই-বিধান পোর্টালেও জুড়ে যাবে বাংলার বিধানসভা।

  • Link to this news (এই সময়)