এই সময়, মালবাজার: 'সুবোধ তুই পালিয়ে যা, এখন সময় পক্ষে না...'
বছর দশেক আগে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন দেওয়ালে আঁকা গ্রাফিতিতে দেখা গিয়েছিল সূর্যকে খাঁচায় বন্দি করে প্রাণপনে দৌড়চ্ছেন এক যুবক। তাতেই লেখা ছিল ওই লাইনটি। মুহূর্তের মধ্যে সেই গ্রাফিতির ছবি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বাংলাদেশে সেই সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করছিলেন সেখানকার জেন জ়ি। সেই আন্দোলনেই ওই গ্রাফিতির মধ্য দিয়ে প্রতিবাদী চরিত্র হয়ে ওঠে 'সুবোধ'— যে আসলে এক ছায়ামানব। বাংলাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে 'সুবোধ' এ পার বাংলাতেও নানা ছাত্র বিক্ষোভে প্রতিবাদের মুখ হয়ে উঠেছিল। এ বার সেই চরিত্রটির 'সন্ধান' মিলল বাংলার প্রতিবেশী রাজ্য সিকিমে!
সে রাজ্যের গ্যাংটক-রংপো রোডের মাজিটার এলাকায় একটি দেওয়ালে দেখা গিয়েছে হুবহু বাংলাদেশের মতোই গ্রাফিতি। তাতে দেখা যাচ্ছে, কংক্রিটের দেওয়ালে স্প্রে–পেন্ট এবং স্টেনসিল দিয়ে আঁকা একটি ছায়ামূর্তি কাঁটাতারের হ্যামক বা ঝুলন্ত বিছানায় শুয়ে কাঁটাতার কাটছে। নীচে আবার একটি বালতি রাখা। ওই ছায়ামানব যে আসলে 'সুবোধ', তা বুঝতে কারও অসুবিধা হয় না। কারণ, বাংলাদেশের বিভিন্ন দেওয়ালে যেসব গ্রাফিতি আঁকা হয়েছিল, তাতে শিল্পী তাঁর সিগনেচার ট্যাগ হিসেবে 'হবেকি' লিখে রেখেছিলেন। সিকিমের ওই গ্রাফিতিতেও রোমান হরফে লেখা 'হবেকি' সিগনেচার ট্যাগটি দেখা গিয়েছে।
সম্প্রতি ওই গ্রাফিতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে সিকিম এবং বাংলার উত্তরাংশে। কারা এঁকেছে ওই গ্রাফিতি? বাংলাদেশিরাই? না কি অন্য কেউ? শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অনেকে মনে করছেন, সিকিম মনিপাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু বাংলাদেশি পড়ুয়া পড়াশোনা করেন। তাঁদের মধ্যেই কেউ করে থাকতে পারেন। যদিও সিকিমের দেওয়ালে আঁকা ওই গ্রাফিতির মাধ্যমে কার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। গত এক দশকে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাস্তায় 'সুবোধ' সিরিজ়ের গ্রাফিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।
একাধিক বার শিল্পীর নাম–পরিচয় জানার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে সে দেশের সরকার। শিল্পীও কোনওদিন প্রকাশ্যে আসেননি। বরাবর আড়ালে থেকে 'সুবোধ'–এর মাধ্যমে প্রতিবাদ করে গিয়েছেন। 'সুবোধ তুই পালিয়ে যা, তোর ভাগ্যে কিছু নেই', 'সুবোধ তুই পালিয়ে যা, এখন সময় পক্ষে না, মানুষ ভালোবাসতে ভুলে গেছে!', সুবোধ, কবে হবে ভোর'— এমনই নানা ধরনের লেখা চিত্রায়িত হয়েছে ওই গ্রাফিতিগুলিতে।